জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরুর আগে ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিদল হল ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় হলের বেশির ভাগ আসন ফাঁকা দেখা যায়।
কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদল নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরুর কিছুক্ষণ আগে হল ত্যাগ করে। অন্য কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই নিজেদের আসনে ছিলেন না।
প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪ ঘটনাটিকে ইসরাইলের জন্য ‘অপমানজনক’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে। ইয়েদিওথ আহরোনোথ এটিকে ‘নাটকীয় প্রতিবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে।
বক্তব্যের শুরুতে নেতানিয়াহু হল ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি তাদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে উল্লেখ করেন এবং যারা এখনো হলের মধ্যে রয়েছেন, তাদেরও বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে তিনি দাবি করেন, ইসরাইল আত্মরক্ষার মাধ্যমে শুধু নিজেদের নয়, যেসব দেশের প্রতিনিধিরা হল ছেড়ে গেছেন তাদেরও নিরাপত্তা রক্ষা করছে।
প্রায় ৪০ মিনিটের বক্তব্যে নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত, ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে কাতার ও তুরস্কের সমালোচনা করেন এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের বাইরে নিউইয়র্কেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করে।
এদিকে ফিলিস্তিনের জাতিসংঘ মিশন আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে হল ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় হল ত্যাগের মাধ্যমে ইসরায়েলের নীতি ও গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা দেওয়া হবে।
তবে ইসরাইল গাজায় গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নেতানিয়াহু জাতিসংঘের বক্তব্যেও এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স, আল-মনিটর ও আইটিভি নিউজ