হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

পরাশক্তি হওয়ার পরও কেন ইরান যুদ্ধ শেষ করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

সিএনএনের বিশ্লেষণ

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কেন দ্রুত ও নির্ণায়কভাবে যুদ্ধ শেষ করতে পারছে না। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে দৃশ্যমান শক্তির ভারসাম্য একপাক্ষিক হলেও বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে বলেন, দুর্বল পক্ষের হাতে “কোনো তাস” থাকে না। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। সামরিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও তেহরান কৌশলগতভাবে এমন কিছু সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথমত, হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ—নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরান একটি শক্তিশালী চাপের হাতিয়ার তৈরি করেছে। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ইরান এই পথ বন্ধ বা সীমিত করে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। এর ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্ববাজারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে প্রণালীটি খুলে দিতে পারে। কিন্তু এর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এমন পদক্ষেপ নিলে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে, এমনকি মার্কিন জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

এছাড়া স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকি। এতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের আশঙ্কা বাড়বে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের অর্থনৈতিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত টিকিয়ে রাখার কৌশল নিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা দেশটি জানে, সময় যত গড়াবে, ততই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পাবে।

হোয়াইট হাউসের দাবি অনুযায়ী, সীমিত কিছু ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি আদায়কে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাস্তবে বড় কোনো অগ্রগতি নয়। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন শতাধিক ট্যাংকার চলাচল করত, সেখানে এই সংখ্যা খুবই কম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং প্রয়োজনে তা শিথিল করার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের সুযোগ রাখে। তবে এই কৌশলও দ্বিমুখী—তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক বাজারে দাম বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এখন সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের চেয়ে বেশি “কৌশলগত ধৈর্যের লড়াইয়ে” পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতা থাকলেও তা ব্যবহার করার প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি জড়িত।

সবশেষে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই সংঘাত আরও জটিল ও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোই নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিই বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করতে আগ্রহী ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে শত শত মার্কিন বিশেষ বাহিনী অবস্থান করছে: সিবিএস

ইরান যুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনই প্রধান উদ্দেশ্য: রুবিও

ইরান যুদ্ধ ‘আমাদের নয়’, সেনা পাঠাবে না যুক্তরাজ্য

পাঁচ দশক পর চাঁদের পথে চার নভোচারী

ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে যা বলছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

সৃষ্টিকর্তা যুদ্ধবাজদের প্রার্থনায় সাড়া দেন না

ফ্লোরিডায় খোদ ট্রাম্পের হোমটাউনে ডেমোক্র্যাটদের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী টার্গেট কোন দেশ, জানালেন ট্রাম্প

জয়ের দাবি থেকে সরে এসে ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি