ইরান যুদ্ধের প্রভাব
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রের চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প হিমশিম খাচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল তৈরি করতে প্রায় ৩৬ মাস সময় লাগে এবং প্রতিটির খরচ প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার। অথচ ইরান স্বল্প খরচের ড্রোন (প্রায় ৩৫ হাজার ডলার মূল্যের) মাসে শত শত উৎপাদন করছে। যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ১,২০০-এর বেশি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা সরবরাহ ঘাটতির উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট এম. গেটসের বহু পুরনো সমালোচনাকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পেন্টাগনের ব্যয়বহুল ও ধীরগতির অস্ত্র প্রকল্পের সমালোচনা করে আসছেন।
বর্তমান প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট এবং অস্ত্র উৎপাদন দ্রুততর করার পরিকল্পনা নিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র বাজেট বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং পেন্টাগনের ক্রয় ও উৎপাদন ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে উঠেছে যেখানে অল্প পরিমাণে অত্যন্ত ব্যয়বহুল অস্ত্র তৈরি করা হয়, ফলে যুদ্ধ শুরু হলে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে রাশিয়া, চীন বা ইরানের মতো প্রতিপক্ষদের তুলনায় উৎপাদনগত গতি অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
পেন্টাগন এখন কম খরচের ড্রোন, একাধিক সরবরাহকারী এবং বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত সংস্কার না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে তার “অপ্রতিরোধ্য সামরিক সক্ষমতা” ধরে রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।
এসআর