যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে চলমান সংকট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যক্রমের প্রভাব আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতারের সরকারি প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ইরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস কতটা রাজনৈতিক সুযোগ পাবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হতে পারে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের ক্ষতি হলে, বিশেষ করে সিনেটের কয়েকটি আসন হারালে, হোয়াইট হাউস ইরানের বিরুদ্ধে আরো একতরফা পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে। এর মধ্যে আবারো সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
মাসগ্রেভের মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে সংঘাত বাড়তে পারে, এরপর শুরু হতে পারে আলোচনা। এতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি আত্মসমর্পণ করছে—এমন রাজনৈতিক চিত্র এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, আরেকটি সম্ভাবনা হলো শান্তি প্রক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটদেরও যুক্ত করা। এতে ইরান সংকট মোকাবিলার রাজনৈতিক দায়ভার শুধু রিপাবলিকানদের ওপর থাকবে না; বরং উভয় দলের ওপরই এর দায় বর্তাবে।
মাসগ্রেভের মন্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে স্পষ্ট করেছেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে বলে তিনি আশা করছেন না।
এদিকে, ইরানের বেসামরিক কূটনীতিকরা এমন একটি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও সংকট নিরসনের রোডম্যাপের প্রস্তাব দিয়েছেন, যখন সেটি গ্রহণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন মাসগ্রেভ।
তার ভাষায়, ইরানের এই প্রস্তাব এমন একটি অবস্থান তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। ফলে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি