যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ড. আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত এই রাজনীতিকের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার কাজ, ক্ষমতা ও বেতন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিনেটের সদস্য হিসেবে তিনি কী কী দায়িত্ব পালন করবেন, জাতীয় নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা কতটা এবং এ পদে থেকে বছরে কত অর্থ বেতন পাবেন—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
সিনেটরের বেতন কত?
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, দেশটির একজন সাধারণ সিনেটরের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতি মাসে তার বেতন দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে বেতনের বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাবও কমবেশি হবে।
সিনেটরের দায়িত্ব ও ক্ষমতা কতটুকু?
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভা কংগ্রেসের দুটি কক্ষের একটি হলো সিনেট। এটি উচ্চকক্ষ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য এই কক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।
সিনেটর হিসেবে আল-সাইয়েদের দায়িত্ব শুধু আইন প্রণয়নের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা বা ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বাজেট, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগ, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রেসিডেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা থাকবে।
আইন ও বাজেট প্রণয়ন: জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব এবং চূড়ান্ত ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন আল-সাইয়েদ। স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের মূল্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতের আইন প্রণয়নে তার ভোট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণ আইন পাসের ক্ষেত্রে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সাধারণত ১০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৫১ জনের ভোট বিল পাসের জন্য যথেষ্ট।
গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ অনুমোদন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বিচারিক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন দেন। তবে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ কার্যকর করতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। এ ধরনের প্রায় ১ হাজার ৩০০ গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের পর অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন আল-সাইয়েদ।
আন্তর্জাতিক চুক্তি ও যুদ্ধনীতি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য দেশের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কোনো চুক্তি অনুমোদনে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ অন্তত ৬৭টি ভোট লাগবে। পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তা, সামরিক ব্যয় ও যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির ওপর নজরদারির দায়িত্বও পালন করবেন সিনেটররা।
অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের বিচার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিংবা শীর্ষ ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের অভিযোগ আনা হলে তার বিচার অনুষ্ঠিত হয় সিনেটে। এ ক্ষেত্রে সিনেট বিচারিক কক্ষ হিসেবে কাজ করে। বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোট দিতে পারবেন আল-সাইয়েদ।
নতুন হলেও ভোটের মূল্য সমান
সিনেটে দায়িত্ব ও প্রভাবের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং কমিটিতে নেতৃত্বের অগ্রাধিকার নির্ধারিত হয়। তবে আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভোটের ক্ষেত্রে সব সিনেটরের ক্ষমতা সমান। অর্থাৎ দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কোনো জ্যেষ্ঠ সিনেটরের ভোটের মূল্য যতটুকু, নবনির্বাচিত আল-সাইয়েদের ভোটের মূল্যও ঠিক ততটুকু।
ফলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিলের ভোটাভুটিতে তার একটি ভোটও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম থাকলে তার অবস্থান জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি
এআরবি