যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের নির্বাচনি ধাক্কার পরপরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজ এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আমির হায়াত-মোগাদ্দাম এ ঘোষণা দেন। তবে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে দেশভেদে আলাদা শর্তও রাখা হয়েছে। ভারত ও চীনের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পারাপারের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট ফি দিতে হবে। অন্যদিকে কাতারের জাহাজের ক্ষেত্রে এই ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
ইরাকের পণ্য ও তেলবাহী জাহাজকেও প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব জাহাজের কাছ থেকে কোনো ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইরানের এমন ঘোষণার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ মুজতবা খামেনি। তবে নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের পরাজয়ে উল্লাস প্রকাশ না করতে ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মুজতবা খামেনির মতে, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে ওয়াশিংটনের ইরাননীতি পুরোপুরি বদলে যাবে, এমনটা মনে করার কারণ নেই। অর্থাৎ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরোধের অবসান ঘটবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক হুঁশিয়ারিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে যুদ্ধের বিস্তৃতি আরো বাড়বে এবং পশ্চিম এশিয়ার আরো বড় অংশ সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়বে।
তার ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে যুদ্ধের পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত হবে।
ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানের বিদ্রূপ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন মহল থেকেও বিদ্রূপাত্মক প্রতিক্রিয়া এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, যখনই এবং যেখানে শয়তানকে দেখবেন, তাকে টেনে নিচে নামান।
অন্যদিকে, ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসও ট্রাম্পকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চার ব্যক্তি মিলে ট্রাম্পকে তুলে ‘বিপজ্জনক বর্জ্য’ লেখা একটি ময়লার পাত্রে ফেলে দিচ্ছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন’।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে নির্বাচনে
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির খারাপ ফলাফলের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন ট্রাম্প ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দুই পক্ষের বক্তব্যে এ বিষয়ে মিল পাওয়া গেছে।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দুই পক্ষের এমন মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান সংঘাত শুধু পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চার দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোর জন্য তেহরানের এই বার্তা নতুন উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
এআরবি