হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

ট্রাম্পের শেষ দুবছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, জানা যাবে আজ

আমার দেশ অনলাইন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর থেকে দেশটিতে শুরু হয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোটদান। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস, সিনেট এবং গর্ভনর পদে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এই ভোটাভুটিকে দেখা হচ্ছে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কর্মকাণ্ডের ওপর জনমতের প্রতিফলন হিসেবে। অনেকে একে প্রেসিডেন্টের জন্য গণভোট হিসেবে দেখছেন। তবে এর ফলাফল নাও মানতে পারেন ট্রাম্প। তার দল কংগ্রেস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ না পেলে তিনি সবকিছুতে ভেটো দেবেন বলে আগাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ধারিত হবেÑকংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। এবার প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা তাদের গভর্নর নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টায় ভারমন্টে (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা) প্রথম ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর এক ঘণ্টা পর নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেটিকাট এবং কেন্টাকি ও ইন্ডিয়ানার কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এদিকে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) জানিয়েছে, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে রেকর্ডসংখ্যক এক হাজার নির্বাচনি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে।

উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টির মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি বিশেষ নির্বাচন। সিনেটের সদস্যরা ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও প্রতি দুই বছর পরপর এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। এছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইনসভা ও স্থানীয় পর্যায়েও নির্বাচন হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকানদের। ডেমোক্র্যাটদের আসন ছিল ২১৪টি। দুটি আসন শূন্য ছিল। সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোটবদ্ধ দুই স্বতন্ত্র সদস্যসহ ডেমোক্র্যাটপন্থিদের আসন ৪৭টি। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২১৮টি আসন প্রয়োজন। অন্যদিকে সিনেটে ৫১টি আসন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট। তবে দুই দলের আসনসংখ্যা ৫০-৫০ হলে ভাইস প্রেসিডেন্টের টাইব্রেকিং ভোটের কারণে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।

এবারের নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছেন রেকর্ড পাঁচ কোটি ৭০ লাখের বেশি মার্কিন নাগরিক। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ইলেকশন ল্যাবের তথ্য উদ্ধৃত করে এ সংখ্যা জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয় গণনা। কিছু আসনে ভোটের ব্যবধান কম হলে ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোট গণনার কারণে ফল চূড়ান্ত হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

এবারের নির্বাচনে সিনেটের কয়েকটি আসন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান মাইক রজার্স। আল-সাইয়েদ নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর। আসনটি ঘিরে ডেমোক্র্যাট শিবিরে অভ্যন্তরীণ বিরোধও আলোচনায় এসেছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন। তার এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর মুখোমুখি হয়েছেন রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন। মেইন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন।

আলাস্কা ও কানসাসের নির্বাচনও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের ফলের ওপর নির্ভর করতে পারে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ।

নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসননীতি এবং গর্ভপাতের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও পররাষ্ট্রনীতিও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদেরও বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার লড়াই করতে হচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের পদ নিয়ে ভোট হয় না। ফলে এই নির্বাচনের ফলাফলের কারণে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারবেন। সরকারি ব্যয় ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও তাদের প্রভাব বাড়বে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও বিচারকদের নিয়োগ অনুমোদন আটকে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। তাই এবারের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের শাসন, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাবেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

মহাকাশে আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির পরিকল্পনা

আলাস্কার সিনেট নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি’ বললেন ট্রাম্প

প্রতিবছর ইসরাইলকে দেওয়া ৪০০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেন শত শত কোটি ডলার ঢালছেন ধনকুবের ও ব্যবসায়ীরা

যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের প্রতীক কেন গাধা ও হাতি

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন পথে

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প, জয়-পরাজয় কীভাবে নির্ধারিত হবে

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে অভিশংসনের মুখে পড়তে পারেন পিট হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ভোটকেন্দ্রে লাইনে জড়ো হচ্ছে ভোটাররা

যুক্তরাষ্ট্রেকে আধিপত্যবাদী ও একতরফা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মনোভাব বাদ দিতে হবে: ইরান