গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন হিউস্টন টেক্সান্সের লাইনব্যাকার আজিজ আল-শাইর। রোববার ইন্ডিয়ানাপোলিস কোল্টসের বিপক্ষে এনএফএলের ম্যাচে চোখের নিচে কালো রঙের স্ট্রিপে দুই ফিলিস্তিনি বোন লানা ও বানার নাম লিখে মাঠে নামেন তিনি। খবর আনাদোলুর।
আল-শাইরের চোখের নিচে লেখা ছিল—‘Lana/Bana Ahmad’। এনএফএলের পক্ষ থেকে আগেও জরিমানা ও সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে এ ধরনের বার্তা প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
১২ বছর বয়সী লানা ও ৮ বছর বয়সী বানাসহ তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য চলতি মাসের শুরুতে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।
এর আগে বিভিন্ন সময় মাঠে নিজের পোশাক ও সরঞ্জামের মাধ্যমে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশুদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আল-শাইর।
২০২৪ মৌসুমে এনএফএলের ‘মাই কজ, মাই ক্লিটস’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ডকে সমর্থন জানিয়ে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা বিশেষ জুতা পরেছিলেন তিনি।
এ বছরের জানুয়ারিতে পিটসবার্গ স্টিলার্সের বিপক্ষে টেক্সান্সের প্লে-অফ ম্যাচে চোখের নিচে ‘স্টপ দ্য জেনোসাইড’ লেখা প্রদর্শন করেন আল-শাইর। এর মাধ্যমে এনএফএলের পোশাক ও সরঞ্জামবিষয়ক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ১১ হাজার ৫৯৩ ডলার জরিমানা করা হয়।
পরে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের বিপক্ষে হিউস্টনের ডিভিশনাল প্লে-অফ ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময়ও একই বার্তা ব্যবহার করেন তিনি। তবে কিকঅফের আগে এনএফএল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, বার্তাটি রেখে খেললে তাকে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না। এরপর তিনি সেটি মুছে ফেলেন।
১৩ সেপ্টেম্বর গাজায় নিহত পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের নাম চোখের নিচে লিখে মাঠে নামেন আল-শাইর। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজায় নিহত হিন্দের নাম প্রদর্শনের জন্য তাকে ১১ হাজার ৯৪১ ডলার জরিমানা করে এনএফএল।
এর এক সপ্তাহ পর আট বছর বয়সী ওয়াফা আকিলার নাম চোখের নিচে লিখে মাঠে নামেন তিনি। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বাবার সঙ্গে নিহত হয় ওয়াফা। ম্যাচ চলাকালে আল-শাইরকে ওই লেখা মুছে ফেলতে বলা হয়, অন্যথায় তাকে আর খেলতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। তিনি নির্দেশ মেনে লেখা মুছে ফেলেন এবং এ ঘটনায় তাকে জরিমানা করা হয়নি।
রোববার আবারো লানা ও বানার নাম চোখের নিচে লিখে মাঠে নামেন আল-শাইর। এনএফএলের আগের জরিমানা ও সতর্কবার্তার পরও গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে তার এই ধারাবাহিক শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রয়েছে।