জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সপ্তাহে চার দিন কর্মদিবস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে।
রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিসানায়কে বলেছেন, “আমাদের খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে আশা রাখতে হবে।”
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। তবে হাসপাতাল, পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগের মতো জরুরি সেবা চালু থাকবে। বুধবারকে ছুটি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে যাতে টানা তিন দিন অফিস বন্ধ না থাকে।
এদিকে, গাড়ি চালকদের জন্য জাতীয় জ্বালানি পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার তেল বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও অনেকেই এই বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন। এর আগে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। থাইল্যান্ডে নাগরিকদের হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, মিয়ানমারে গাড়ি বিকল্প দিনে ব্যবহারের নিয়ম চালু হয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি এগিয়ে আনা এবং পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট চালু করা হয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইনসে সপ্তাহে এক দিন বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ এবং ভিয়েতনামে ঘরে বেশি থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
সূত্র: বিবিসি নিউজ
এসআর