জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। এটি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী নীতিগত কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আগাম নির্বাচনের পথ খুলে দেবে। সংবাদ মাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, তাকাইচি জনমত জরিপে নিজের জনপ্রিয়তার ওপর ভরসা করছেন, যাতে তার দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে পারে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্বাচন আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হতে পারে। এলডিপি দীর্ঘদিন ধরে জাপান শাসন করছে, তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘনঘন হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা জনমত জরিপে ভালো অবস্থানে থাকলেও দলটির জনপ্রিয়তা কম। সংসদের ক্ষমতাধর নিম্নকক্ষে এলডিপি কেবল সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে, যা প্রোঅ্যাকটিভ রাজস্ব ব্যয় ও প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর মতো নীতিগত কর্মসূচি পাসে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদাফুমি কাওয়াতো বলেন, “যদি এলডিপি এককভাবে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তাহলে অন্য দলগুলোর কাছে ছাড় না দিয়েই তিনি নিজের নীতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন।” তাকাইচির মন্ত্রিসভা আগামী অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১২২.৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বাজেট অনুমোদন করেছে। তিনি দ্রুত সংসদের অনুমোদন পেতে চাইছেন, যাতে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা ও অর্থনীতি চাঙ্গা করা যায়।
বিরোধী দলগুলো বলেছেন, সংসদ ভেঙে দেওয়ার কারণে বাজেট পাসে বিলম্ব ঘটতে পারে। প্রধান বিরোধী দল সিডিপির নেতা জুন আজুমি বলেন, “এতে মানুষের জীবিকা বিসর্জন দেওয়া হবে।” অনেকে মনে করছেন, নির্বাচন নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে খাদ্যপণ্যের ওপর কর কমানোর প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগাম নির্বাচন তাকাইচিকে চীনের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা ভাঙতেও সহায়তা করতে পারে। যদি তিনি ঘরোয়া সমর্থন দৃঢ়ভাবে প্রদর্শন করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দরকষাকষিতে তার ক্ষমতা বাড়বে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জাপানের কঠোর অবস্থান নেওয়া নেতাকে সমর্থন করলে চীন হয়তো ভোটারদের কাছে ইঙ্গিত দিতে পারে যে কট্টর অবস্থান সমর্থন করলে কষ্ট পেতে হতে পারে—যা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ বা অন্য উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে।
চীন সম্প্রতি জাপানে সামরিক ব্যবহারের উপযোগী ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ পণ্যের রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ বিরল ধাতুর রপ্তানিও সীমিত করেছে। জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৬০% জাপান-চীন সম্পর্কের অবনতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তাকাইচির পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবার সময়ে এলডিপি ও জোটসঙ্গী কোমেইতো সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। কোমেইতো ও প্রধান বিরোধী দল সিডিপি এখন তাকাইচির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে নির্বাচন লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এসআর