ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুক্কা সাগর অঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্র ইন্দোনেশিয়ার তেরনাতে শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের এক হাজার কিলোমিটারের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে সুনামির ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের উচ্চতার চেয়ে ০.৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া গুয়াম, জাপান, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের উপকূলে ৩০ সেন্টিমিটারের কম উচ্চতার ঢেউ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির উপকূলে সামান্য সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন হতে পারে, তবে বড় ধরনের সুনামি ক্ষতির আশঙ্কা নেই। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোও জানিয়েছে, দেশটির মূল ভূখণ্ড বা দ্বীপাঞ্চলের জন্য কোনো সুনামি হুমকি নেই।
এদিকে, উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদো শহরে অবস্থানরত বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, ভূমিকম্পের কম্পনে ঘুম ভেঙে যায় এবং আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তিনি বলেন, কম্পনটি “অনেকক্ষণ” স্থায়ী ছিল, তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো দৃশ্য তিনি দেখেননি।
ইন্দোনেশিয়া প্রায় ২৮ কোটির বেশি মানুষের একটি দ্বীপমালা দেশ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর শহরে ৫.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ৬০২ জন নিহত হন। এছাড়া ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪,৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
এর আগে ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে এক ডজন দেশের ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিল ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বাসিন্দা।
এসআর