হোম > বিশ্ব > এশিয়া

মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণের পর খুন করল হিন্দু যুবকরা, উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

বিবিসি ও কলকাতা প্রতিনিধি

পুকুর থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার হওয়ার পর অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিবঙ্গের বারুইপুর অঞ্চল। ছবি: বিবিসি

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুর অঞ্চলে এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রায় ১১ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে খুন করার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবার বলছে, শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ খাবার কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। এরপর রোববার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

লাশ উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পশ্চিমবঙ্গে। বারুইপুরে টহল দিচ্ছে সশস্ত্র পুলিশবাহিনী।

সোমবার প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট এসেছে পুলিশের হতে। তার উপর ভিত্তি করে পকসো আইনে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে রুজু হওয়া মামলায় ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকায় এক যুবককে পিটিয়েও মারা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে ক্ষুব্ধ জনতার রোষেই তার মৃত্যু হয়।

রোববার বারুইপুর থানার পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী বারুইপুরে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কোনো রকম সংঘাত ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নির্যাতিতার পরিবারকে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিবারটি রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই।

ওই অঞ্চলের এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর বোনটি (নির্যাতিতা কিশোরী) তার বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে গিয়েছিল। কিন্তু রাত আটটার পর থেকে তার আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।’

‘রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। রোববার সকালে আমরা স্থানীয়দের থেকে খবর পেলাম। পরে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীকে আমরাই ধরে ফেলি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল ও তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করি। তখনও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা দোষীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

তিনি শান্তনু মণ্ডল বলে যার নাম উল্লেখ করছিলেন, তিনি হলেন বারুইপুর পশ্চিম তিন নম্বর অঞ্চলের বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি।

অন্য একজন স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘শান্তনু মণ্ডল প্রথমে স্থানীয়দের ওই পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেন এবং আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা করেন।’

এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অঞ্চল। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।

বারুইপুরে ওই ঘটনার পরে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা সামনে এসেছে। জনরোষ সামাল দিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।

এই ঘটনায় রোববার রাত পর্যন্ত তিনটি মামলা করা হয়েছিল। একটি মামলা কিশোরীকে খুনের ঘটনায়, একটি স্থানীয় জনগণ কর্তৃক পুলিশের ওপর হামলা ও অপরটি এক অভিযুক্তকে খুনের মামলা।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পকসো ধারায় ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি পুলিশের হাতে আসার পরে।

যদিও প্রাথমিক রিপোর্টটিতে কী বলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুলিশকর্তারা।

একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে পুলিশ। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে সাজা নিশ্চিত করা হবে।

অভিযুক্ত একজনকে রোববার গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়াও আরও দুজন গ্রেফতার হয়েছেন। এখন মোট গ্রেফতারের সংখ্যা হলো তিন। অন্য তিনজন আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনায় যখন উত্তাল অবস্থা বারুইপুরে, তখন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বারুইপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে রোববার রাতেই তৃণমূল কংগ্রেসে তার অনুগামী নেতারা অভিযোগ করেন, মমতা ব্যানার্জীর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করে ঘটনাস্থলে যেতে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে।

মমতা ব্যানার্জীর কালীঘাটের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েনের ছবি পোস্ট করেন সংসদ সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়েন। এর পরেই একাধিক 'মমতা-পন্থী' নেতা কালীঘাটে পৌঁছান।

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য দোলা সেন কালীঘাট থেকে বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জীকে গৃহবন্দি করে রাখার পরিস্থিতি তৈরি করেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রায় জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এত দিনের অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদকে এভাবে আটকে রাখা হলো কেন, সেই উত্তর আমরা পুলিশ প্রশাসনের থেকে জানতে চাই।’

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, গৃহবন্দি করার অভিযোগ মিথ্যা। তবে মমতা ব্যানার্জীকেও যাতে ডিম ছুড়ে না মারা হয়, তার সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।

নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার ভিডিও নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তৃণমূল নেতা ও সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জী।

নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পরিবারের বেদনা বর্ণনার অতীত, এই ঘটনায় দ্রুত শাস্তি বিধানের দাবি জানাই।’

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তারা বলেছেন, শুভেন্দু অধিকারী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলিমদের ক্রমশ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ট্রিট করছে সরকার। হিন্দু যুবকরা মুসলিম নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বিচার চাইতে সংঘবদ্ধ হলে উল্টো মুসলিমদের আটকাচ্ছে পুলিশ। অনেক মুসলিম বলেছেন, ‘আমরা কি ন্যায়বিচারের দাবিও জানাতে পারব না?’

হরমুজ ইস্যুর মধ্যেই মালাক্কা প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়ার

শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত বেড়ে ২৫

মাস্কের স্পেসএক্স রকেটে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে কোরিয়া

মোদির সম্মাননা পুরস্কারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

থাইল্যান্ডে মিলল প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো ভারতীয় আংটি

দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেপ্তার

থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৮ সন্ন্যাসী নিহত

থাইল্যান্ডে তীর্থযাত্রার সময় পিকআপের ধাক্কায় ৮ বৌদ্ধভিক্ষু নিহত

ভারত থেকে পেট্রোল কিনছে রাশিয়া

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান