নেপালের মাউন্ট এভারেস্টের কাছে একটি উঁচু এলাকায় অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ভারতের নাগরিক।
নেপাল পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
নিহত ব্যক্তির নাম বসন্ত কুমার বলরাম রামাডু। তার বয়স ৪৭ বছর। তিনি ভারতের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা ছিলেন বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু পোস্ট।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে সোলুখুম্বু জেলার একটি হেলিপোর্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এনডিটিভি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগে দুটি হেলিকপ্টারের পাখা পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে হেলিকপ্টার দুটি নিচে বরফাচ্ছন্ন ভূমিতে আছড়ে পড়ে। হেলিকপ্টার দুটি পরিচালনা করছিল ফিশটেইল এয়ার ও ডাইনেস্টি এয়ার।
সোলুখুম্বু জেলা পুলিশের প্রধান নবীন রাজা বুধাথোকি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘একজন বিদেশি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
দুর্গম পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ উড়োজাহাজ চলাচল
নেপালে পর্যটক, পর্বতারোহী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনে ছোট হেলিকপ্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। জরুরি উদ্ধারকাজেও এসব হেলিকপ্টারের ভূমিকা রয়েছে। তবে দেশটির দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটিই নেপালে অবস্থিত। এ কারণে প্রতি বছর দেশটিতে হাজার হাজার বিদেশি পর্বতারোহী ও পর্যটক আসেন।
নেপালের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের পার্বত্য এলাকাগুলোতেও হেলিকপ্টার চালানো অত্যন্ত কঠিন। উঁচুতে বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় উড্ডয়ন ও অবতরণে নানা সমস্যা তৈরি হয়।
বাতাস পাতলা হলে হেলিকপ্টারের পাখা বাতাসের কম অণুর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে। এতে উড্ডয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলনক্ষমতা কমে যায়। একই সঙ্গে বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম থাকায় ইঞ্জিন পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। ফলে জ্বালানি দহনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং ইঞ্জিনের শক্তিও হ্রাস পায়।
এর কয়েক দিন আগেই ভারতের উত্তরাখণ্ডের বদরিনাথ থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় পাইলট ও পাঁচ যাত্রীসহ ছয়জনই নিহত হন। বদরিনাথও উচ্চতার কারণে বাতাসের ঘনত্ব কম এমন একটি এলাকা। সেখানে বিমান চলাচল বেশ চ্যালেঞ্জিং।
এএম