অস্ট্রেলিয়ায় জন্মহার কমছে, বাড়ছে মৃত্যুহার। ২০৬০-এর দশকে প্রথমবারের মতো দেশটিতে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনসংখ্যার এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটতে যাচ্ছে, যখন বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, জন্মহার কমে যাওয়া এবং অভিবাসন কমানোর পদক্ষেপের কারণে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
কয়েক দশক ধরে অস্ট্রেলিয়া কম জন্মহারের প্রভাব পুষিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা ধরে রেখেছে মূলত অভিবাসনের ওপর নির্ভর করে। তবে অভিবাসনের গতি কমে আসায় দেশটি এখন জাপান, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোর পথেই এগোচ্ছে। এসব দেশে ইতোমধ্যে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।
এক বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্স বলেন, প্রথমবারের মতো ২০৬০-এর দশকে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০৬৬ সালের মধ্যে ৮৫ বছরের বেশি বয়সি অস্ট্রেলীয়দের সংখ্যা তিন গুণ হয়ে যাবে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর আরো চাপ সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের নেতৃত্বাধীন মধ্য বামপন্থি লেবার সরকার গত সপ্তাহে অভিবাসন নীতিতে আরো কড়াকড়ি আরোপ করেছে। দেশটিতে ডানপন্থি পপুলিস্ট দল ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় অ্যালবানিজ সরকার এই পদক্ষেপ নেয়। দলটি অভিবাসন ব্যাপকভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ার কারণে পরিচর্যা সেবার চাহিদা বাড়বে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি, সেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের পরিচর্যা খাতে কর্মীর ঘাটতি আরো তীব্র হতে পারে। এসব খাত বর্তমানে অভিবাসী কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ভবিষ্যৎ বাজেটগুলোতে কর কমানোর বিষয়েও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে লেবার সরকার যখন আরো বেশি সহায়তা দিচ্ছে, তখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেশি বন্ধকি ঋণের সুদহার এবং আবাসনের বাড়তি খরচে অস্ট্রেলীয়রা চাপের মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ