ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের কড়া সমালোচনা করে একে ‘মিউনিখ সার্কাস’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ই-থ্রি কার্যত প্রভাব হারিয়েছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ইরান ইস্যুতে বার্ষিক এই নিরাপত্তা সম্মেলন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক নীতিতে ব্যর্থতার জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মানিকে দায়ী করেন।
তিনি দাবি করেন, একসময় কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও ইউরোপ এখন “দৃশ্যপট থেকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত”। আরাঘচির ভাষ্য, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ই-থ্রি-এর পক্ষাঘাত এবং প্রভাব হ্রাস স্পষ্ট।’
এছাড়া তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে আমাদের বন্ধুরা ইউরোপীয় ত্রয়ীর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।” একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, জার্মানি তার আঞ্চলিক নীতিগুলো ‘সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করেছে।’ তার মতে, পরমাণু আলোচনার গতিপথ প্রভাবিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
শুক্রবার শুরু হওয়া ৬২তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ৬০টির বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং প্রায় ১০০ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী অংশ নিয়েছেন। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের সম্মেলনে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রাক্তন শাহের পুত্র ও নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি মন্তব্য করেন, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে পারে। তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান, তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী পারমাণবিক আলোচনা এড়িয়ে চলার জন্য।
পাহলভি বলেন, ‘এটা সময়ের ব্যাপার। আমরা আশা করছি এই আক্রমণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং জনগণ রাস্তায় ফিরে এসে চূড়ান্তভাবে শাসনের পতন ঘটাবে।’
তার এই মন্তব্য ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব ও নির্বাসিত বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তে থাকা বিভক্তিকে স্পষ্ট করে। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনা চলমান থাকলেও ইরানের বিরোধী শিবির এখনও বিভিন্ন গোষ্ঠী ও আদর্শিক উপদলে বিভক্ত, যার মধ্যে রাজতন্ত্রবাদীরাও রয়েছে।