জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। ভাষণে বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। বালেন্দ্র বলেন, যুদ্ধের অস্ত্র দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছালেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও জ্বালানি সংগ্রহে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।
নেপালি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের জন্য আমাদের সরবরাহব্যবস্থা নিখুঁত, কিন্তু খাদ্যের জন্য তা ভেঙে পড়েছে।’
দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো এমন জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির শিকার হচ্ছে, যার জন্য তারা দায়ী নয়। একই সঙ্গে তাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে এমন যুদ্ধের প্রভাব, যা তারা শুরু করেনি।
হিমালয় জলবায়ু সহনশীলতা ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেপাল, ভারত ও চীনের নেতৃত্বে একটি ‘হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ গঠনের প্রস্তাব দেন বালেন্দ্র শাহ। এর আওতায় স্যাটেলাইট তথ্য, প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান পারস্পরিকভাবে ভাগাভাগির কথা বলেন তিনি।
বালেন্দ্র বলেন, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানি, কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তন কোনো সীমান্ত মানে না; হিমবাহ ও বন্যা পাসপোর্ট নিয়ে চলাচল করে না।
ভারত-চীনের সহায়তার প্রশংসা
সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার পর সহায়তার জন্য ভারত ও চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশ দ্রুত ও উদার সহায়তা দিয়েছে; পাশাপাশি জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশও নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে।
নেপালের সরকারি র্যাপিড ডিজাস্টার নিডস অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও সম্পদ পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে আনুমানিক ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা নেপালের মোট জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশের সমান।
সূত্র: এনডিটিভি
আরএ