ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইতালির ব্যাপক সহযোগিতার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেছেন, ইতালি ইরানের সঙ্গে সংঘাতে অংশ নেয়নি এবং দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলো কেবল লজিস্টিক বা সরবরাহ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে ইতালির ঘাঁটি থেকে প্রায় ৫০০ মার্কিন বিমান উড্ডয়ন করেছে। তার ভাষ্য, ইউরোপীয় মিত্রদের ঘাঁটি থেকে মোট চার থেকে পাঁচ হাজার বিমান অভিযানে অংশ নেয় এবং ইতালির সহযোগিতা ছিল ‘বিশাল’।
তবে একই দিনে দক্ষিণ ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ফ্রান্স-ইতালি শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুটের বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত ও অতিসরলীকৃত’ বলে মন্তব্য করেন মেলোনি।
তিনি বলেন, মহাসচিব তার উৎসাহী বর্ণনায় ভিন্ন ধরনের অনুমোদিত ফ্লাইটকে এক করে ফেলেছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের ফ্লাইটের মধ্যে পার্থক্য করেননি।
মেলোনি আরও বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে অংশ নিইনি। যদি ইতালি সত্যিই ওই যুদ্ধে অংশ নিত, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারবার ইতালির সমর্থন না পাওয়ার যে হতাশার কথা বলছেন, তার কোনো অর্থ থাকত না।
এদিকে ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্র যদি অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে তা আগ্রাসনের শামিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রুটের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ইস্যুতে ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি মিত্র দেশের মতো ইতালিও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যথাযথ সমর্থন দেয়নি।
গত ১৯ জুন জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ’ করেছিলেন। এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বুঝতে পারি না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। এটি প্রথমবার নয়। পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের তুলনায় তিনি মিত্রদের প্রতিই বেশি কঠোর আচরণ করছেন, যা হতাশাজনক।
এ ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘গুরুতর ও অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটন সফর বাতিলের ঘোষণা দেন।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
এআরবি