হরমুজ প্রণালির আশপাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জাহাজ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে থাকায় বৈশ্বিক শিপিং খাত গভীর অনিশ্চয়তা ও বিপুল আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কখন নিরাপদে এই কৌশলগত জলপথ ছাড়ার সুযোগ মিলবে, তা হিসাব কষতেই ব্যস্ত জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার করানোর অভিযান মাত্র ৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় কেবল দুটি জাহাজকে পথনির্দেশনা দিয়ে বের করে আনা সম্ভব হয়। এরপর আবারও শিপিং কোম্পানিগুলোকে নিজেদের সিদ্ধান্তেই ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ কোম্পানি জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক। কারণ, প্রণালি অতিক্রমের সময় হামলার শিকার হলে শুধু মূল্যবান কার্গো নয়, জাহাজের নাবিক ও কর্মীদের জীবনও হুমকির মুখে পড়বে। বহু মিলিয়ন ডলারের জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা কোম্পানির জন্য আর্থিক ও পরিচালনাগতভাবে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।
বীমা ব্যবস্থাও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। যুদ্ধকালীন ধারা অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকে থাকা জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির দায় অনেক ক্ষেত্রেই বিমা প্রতিষ্ঠান নিতে বাধ্য নয়। ফলে পর্যাপ্ত বীমা সুরক্ষা ছাড়া জাহাজ সরানো কোম্পানিগুলোর জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত হতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরের নির্বাহী পরিচালক জিন সেরোকা বলেন, হরমুজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে শিপিং কোম্পানিগুলোকে অত্যন্ত নির্দিষ্ট নিরাপত্তা মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। তার মতে, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এমন ঝুঁকি নিতে চাইবে না।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩২টি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরো অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। সংস্থাটি জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে যে, দীর্ঘমেয়াদে নৌবাহিনীর এসকর্ট কোনো টেকসই সমাধান নয়।
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি