ইতালিতে বিচারব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে দুই দিনব্যাপী গণভোট শুরু হয়েছে রোববার থেকে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দাবি করেছেন, এর মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা আরও স্বাধীন ও কার্যকর হবে। তবে সমালোচকদের মতে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গণভোট কেবল সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ নয়; এটি আগামী নির্বাচনের আগে মেলোনির নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনায় বিচারক ও প্রসিকিউটরের কার্যক্রম আলাদা করার পাশাপাশি তাদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলোনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এই সংস্কার বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, মেধাভিত্তিক, স্বায়ত্তশাসিত ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখবে।
অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী এলি শ্লাইন মন্তব্য করেন, প্রস্তাবটি দুর্বলভাবে প্রণীত এবং এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করবে।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ শিবির প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। ফলে ফলাফল যে কোনো দিকে যেতে পারে। ‘না’ জয়ী হলে তা মেলোনির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে, যদিও তিনি জানিয়েছেন, ফল যাই হোক, তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন না।
ভোটগ্রহণ সোমবার (গ্রিনিচ মান সময় ১৪:০০) শেষ হবে এবং একই দিন প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।
এসআর