হোম > বিশ্ব > ভারত

অনুপ্রবেশকারীর গল্প সাজিয়ে মুসলিমদের নিশানা করা হচ্ছে: ওয়াইসি

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা

ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) এবং নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কাদেমি মসজিদ ভাঙার পদক্ষেপ বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। কেন্দ্রীয় সরকার ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর এমন বিদ্বেষী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রায়ই অবস্থান নেন তিনি।

ওয়াইসির অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।

ভোটার তালিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার অভিযোগে ভারতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম চালানো হয়। তবে হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আর ভি কারনান জানিয়েছেন, এই যাচাইয়ে কোনো বিদেশি নাগরিক বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে ওয়াইসি বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তার এই বক্তব্য বিজেপি ও সংঘ পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর নাম থাকার অজুহাতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ। নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে দিনমজুরদের অন্তত দুই দিনের কর্মসংস্থান হারাতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং সরকারি দপ্তরে ছোটাছুটি করতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

অন্যদিকে, নয়াদিল্লির কৃষি ভবন এলাকায় অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন কাদেমি মসজিদ ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন ওয়াইসি। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের আওতায় কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট নির্মাণের অংশ হিসেবে মসজিদটি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তি দিয়েছে, সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে মসজিদটির অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কেন্দ্রের এই যুক্তির জবাবে ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন যদি হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভূমিপূজার মাধ্যমে হতে পারে, তাহলে সেখানে একটি ঐতিহাসিক মসজিদের অবস্থান ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী হবে কেন?

তিনি বলেন, ১৯১২ সালের আগেই কাদেমি মসজিদটি ওই স্থানে প্রতিষ্ঠিত ছিল। এমনকি ব্রিটিশরা লুটিয়েনস দিল্লি নির্মাণের সময় জমি অধিগ্রহণ করলেও মসজিদটি অধিগ্রহণের বাইরে রেখেছিল। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।

এআইএমআইএম প্রধান এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তার মতে, মসজিদটির ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা স্বীকার করা উচিত সরকারের। মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা ওয়াক্‌ফ ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

এদিকে মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন ওয়াইসি। বিশেষ করে মুসলমানদের ‘আব্দুল’ বলে কেবল পাংচার সারানোর কাজে সীমাবদ্ধ রাখার মতো মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।

এমএমআর

ভারতের গণতন্ত্রে ২০ কোটি মুসলমানের জায়গা কোথায়

ককরোচদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি যোগসূত্রের অভিযোগ মোদি সরকারের

দিল্লিতে ভবন ধসে নিহত ২, অনেকের আটকা পড়ার আশঙ্কা

৪ ভারতীয় ও ২ সংস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে যত কারণ

কলকাতার হাসপাতাল ও পর্যটন ব্যবসায় ধস

‘যে মসজিদের পাশে বড় হয়েছি, সেখান থেকেই উচ্ছেদ হতে হয়েছে’

ভারতে ইসলামি পারিবারিক আইন রক্ষায় মুসলিমদের স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান

মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ায় উদ্বিগ্ন আসামের মুসলমানরা

দিল্লিতে মসজিদ উচ্ছেদে ছিন্নভিন্ন জনপদ, অনিশ্চয়তায় ৭১৭ পরিবার