হোম > বিশ্ব > ভারত

মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফল কেলেঙ্কারি, শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মোদি

আমার দেশ অনলাইন

নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ফটো

ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্কুল সমাপনী পরীক্ষার বোর্ড 'সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন' (সিবিএসই)-এর ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র শিক্ষার্থী অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল গত ১৩ মে প্রকাশের পর থেকে একের পর এক জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনার তথ্য সামনে আসায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করে চালুর জেরে ১৭ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সিবিএসইতে আসলে কী ঘটছে?

৩০ হাজারেরও বেশি স্কুল অনুমোদিত সিবিএসই বোর্ড এ বছর কোটি কোটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য 'অন-স্ক্রিন মার্কিং' (ওএসএম) পদ্ধতি চালু করে। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করে ডিজিটাল ইমেজে রূপান্তর করে একটি প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয় এবং পরীক্ষকেরা কম্পিউটারে তা মূল্যায়ন করেন। তবে ঝাপসা স্ক্যান, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সার্ভার ডাউন এবং সময়মতো সমস্যার সমাধান না হওয়ায় পুরো ফলাফল ব্যবস্থার ওপর সন্দেহের ছায়া নেমে এসেছে।

পরীক্ষার মাত্র ছয় মাস আগে সিবিএসই নিয়ম শিথিল করে হায়দরাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'কোয়েম্পট এদু তেক'-কে এই কাজের দায়িত্ব দেয়। এই প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব ইতিহাস বেশ বিতর্কিত। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তেলেঙ্গানা রাজ্যে এক পরীক্ষার খাতা ডিজিটালাইজেশনের দায়িত্বে ছিল 'গ্লোবারেনা টেকনোলজিস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ত্রুটিপূর্ণ ফলের কারণে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করে এবং অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানটিই নাম পরিবর্তন করে 'কোয়েম্পট এদু তেক' রাখা হয় এবং তারা সিবিএসই-এর এই কাজের কাজ পায়।

কারা ফাঁস করছে সিবিএসই-এর ত্রুটি?

একাডেমিক ও শিক্ষকেরা ওএসএম পদ্ধতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এবার শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতি ও অবহেলা প্রকাশ্যে এনেছে।

বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার খাতা পর্যালোচনার আবেদন করার পর দেখতে পান, সিবিএসই তাকে যে স্ক্যান কপি পাঠিয়েছে তা আসলে তার খাতাই নয়, হস্তাক্ষর সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্সে (সাবেক টুইটার) তার এই পোস্ট ১৩ হাজারের বেশি বার শেয়ার হওয়ার পর সিবিএসই ভুল স্বীকার করে এবং ম্যানুয়ালি খাতা দেখে তার ফল সংশোধন করে।

রাঁচির ১৮ বছর বয়সি তরুণ শিক্ষার্থী সার্থাক সিদ্ধান্ত তার ব্লগে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে দেখান যে, কীভাবে একটি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মাবলী পরিবর্তন করে একটি কালো তালিকাভুক্ত বা বিতর্কিত সংস্থাকে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

বেঙ্গালুরুর ১৯ বছর বয়সি তরুণ নিসর্গ অধিকারী সিবিএসই-এর অন-স্ক্রিন মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতা উন্মোচন করেন। তিনি দেখান যে কীভাবে মাস্টার পাসওয়ার্ড ভেঙে পরীক্ষক হিসেবে সিস্টেমে প্রবেশ করে নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সিবিএসই-কে বিষয়টি জানালেও ফল প্রকাশের পর পর্যন্ত তার সমাধান করা হয়নি।

মূল সমস্যা ও প্রাতিষ্ঠানিক অনাস্থা

ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটি কেন্দ্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রণেশ প্রকাশ আল জাজিরাকে জানান, ভারতের সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নিরাপত্তা দুর্বলতা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য গবেষকদের উৎসাহিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্বানন্দ বলেন, ‘এই বিপর্যয় কোনো একক ঘটনা নয়। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ) জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও প্রশ্ন ফাঁসের কারণে আগে থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং যেকোনো ধরণের ভিন্নমতের প্রকাশকে এখানে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এমনকি এক শিক্ষার্থী খাতার অমিল নিয়ে সরব হলে সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনের এক সঞ্চালক তাকে ‘পাকিস্তানি’ বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে সিবিএসই ভুল স্বীকার করার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই তীব্র বিতর্কের মুখে সরকার গত মঙ্গলবার সিবিএসই-এর চেয়ারম্যান ও সচিবকে অন্য দপ্তরে বদলি করেছে। তবে বিরোধী দলগুলো একে 'আসল অপরাধী' শিক্ষামন্ত্রীকে বাঁচানোর এবং আমলাদের বলির পাঁঠা বানিয়ে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের দাবি এখনো একই, শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হোক এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।’

আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এই বদলি কোটি কোটি শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ক্ষতে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো এবং এর মাধ্যমে সরকার বার্তা দিচ্ছে যে তারা শিক্ষামন্ত্রীকে পরিবর্তন করবে না।

এদিকে ফল প্রকাশের পর থেকে সিবিএসই-এর খাতা পুনঃমূল্যায়নের ওয়েবসাইটটি ডাউন থাকায় অনেক অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থী আবেদনও করতে পারছে না, যার ফলে তাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এএম

কেরালায় ‘ইসলাম-বান্ধব’ জিম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক

২০০ কোটি ডলারের সামরিক ড্রোন কিনতে যাচ্ছে ভারত

দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি আহত

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলনেতা হলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত

তৃণমূল কংগ্রেসের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিল মমতা

‘হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের হাত’, অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ মমতার

‘গরু পশু নয়, মা হিসেবে পূজনীয়’: যোগী আদিত্যনাথ

ভারতের বান্দায় তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই

ধ্বংসের রাজনীতিতে বিজেপি, কলকাতা থেকে উচ্ছেদ হল মেসির মূর্তি

মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে এবার রাজপথে বিক্ষোভে নামছে ‘ককরোচ পার্টি’