রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে রাশিয়ার তেল কেনা থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করছে, যা তিনি অন্যায্য বলে মনে করেন। তার মতে, আরো বেশি দেশের উচিত রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা।
এদিকে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা ও গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রধান অজয় শ্রীবাস্তব। তিনি বলেন, ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। এর বড় একটি অংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে, যা হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
তার দাবি, গত বছর রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল ভারত কিনেছিল, তার প্রায় ৩০ শতাংশ মার্কিন চাপের কারণে জটিলতায় পড়েছে। পরিস্থিতিকে তিনি ‘জরুরি অবস্থার মতো’ বলে উল্লেখ করেন।
অজয় শ্রীবাস্তব আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব তেল রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং ভারতও আগের তুলনায় আমেরিকা থেকে বেশি তেল আমদানি করেছে। তবে তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
তার ভাষ্য, ইউরোপ রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকলেও, আমেরিকার শোধনাগার ও সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরো বহু বছর সময় লাগবে। এই বাস্তবতায় ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পেছনেও জ্বালানি স্বার্থ কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের জন্য পশ্চিম এশিয়া ও রাশিয়া দুই অঞ্চলই জ্বালানির প্রধান ভরসা। তাই নয়াদিল্লির উচিত দ্রুত রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো এবং এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের চাপকে গুরুত্ব না দেওয়া।
তবে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক স্মিতা শর্মা। তার মতে, বর্তমান বাস্তবতায় ভারত প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করার অবস্থানে নেই।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইবে না, যাতে বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি হয়।
তার মতে, ভারত হয়তো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে, কিন্তু তা প্রকাশ্যে জোর দিয়ে তুলে ধরবে না।
ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন স্মিতা শর্মা। তিনি বলেন, ব্রিকস জোটে রাশিয়া, চীন ও ইরান ঘনিষ্ঠ অবস্থানে থাকলেও ভারত ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দিকে বেশি ঝুঁকছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা চললেও পারস্পরিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
এআরবি