মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের রপ্তানিকারকেরা। তাদের মতে, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। তবে চুক্তির বিভিন্ন দিক এখনও অস্পষ্ট থাকায় বিশ্লেষকেরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেওয়ার পরই এই চুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের ওপর গত বছর আরোপ করা ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা ও অন্যান্য পণ্য মিলিয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানিতে সম্মত হয়েছে।
গত বছর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে অধিকাংশ দেশ চুক্তিতে পৌঁছালেও ভারত তার বাইরে থেকে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ তুলে নেয় এবং রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
তবে সোমবার গভীর রাতে ট্রাম্পের ঘোষণার পর বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইয়ের শেয়ারবাজার সূচক নিফটি প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়ে যায়।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস চুক্তিটিকে “সব চুক্তির জনক” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, শুল্ক কমায় ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমান অবস্থানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। বিশেষ করে পোশাক ও জুতা শিল্পে যেসব অর্ডার আটকে ছিল, সেগুলো দ্রুত ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্মার্টফোন ও জেনেরিক ওষুধের মতো খাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও মৎস্যপণ্য, রত্ন ও গয়নার মতো শ্রমঘন খাতগুলো আগের উচ্চ শুল্কে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। সিফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার মতে, শুল্ক কমায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের সামুদ্রিক পণ্যের রপ্তানি আবার বাড়বে।
তবে অর্থনীতিবিদরা চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামানোর পথে এগোচ্ছে—এই দাবিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কৃষিখাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির দাবিকেও অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, লিখিত চুক্তি, যৌথ বিবৃতি ও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা না আসা পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ঘোষণার হিসেবেই দেখা উচিত।