দু’দফা ভোট শেষ হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩০-এর বেশি আসন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রের দাবি, অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে এমনই ফলাফলের ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, তাঁদের দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে।
দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই নির্বাচনে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে মোদির দল বিজেপির প্রচার এবং এসআইআর প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষের কথিত অসন্তোষ—এই দুই বিষয় ভোটের মূল আলোচনায় ছিল। শাসকদলের বক্তব্য, বিজেপির ‘বহিরাগত’ আক্রমণ ও বিভিন্ন হুঁশিয়ারিমূলক মন্তব্য উল্টে গিয়ে তাদের বিপক্ষেই প্রভাব ফেলেছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাজ্যের নন্দীগ্রামে বিরোধী পক্ষের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে তৃণমূল—দলীয় বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে এ-ও জানানো হয়েছে, ৪ মে, ভোটগণনার দিন রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং ‘ডিজে’ দুই-ই বাজবে। যে কথা ভোটের প্রচার পর্বে বিভিন্ন সময়ে বলতে শোনা গিয়েছে অভিষেককে।
তৃণমূল সূত্রের দাবি, অজয়পাল শর্মার হুঁশিয়ারি-ভিডিয়ো সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ‘বহিরাগত’ বাঙালিদের ‘হুমকি’ দিচ্ছে— এই বিষয়টি ভাল ভাবে নেয়নি জনতা। নাম না-করে অমিত শাহকেও নিশানা করেছে রাজ্যের শাসকশিবির। তাদের দাবি, গুজরাত থেকে আসা ‘গুন্ডা’ বাঙালিদের হুমকি দিয়েছে। এই সবই আসলে বিজেপির জন্য ব্যুমেরাং হয়েছে বলে মনে করছে তারা।
তৃণমূলের ওই সূত্রের দাবি, তারা রাজ্যের মহিলা ভোটারদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে পেরেছে। যে জেলাগুলিতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল, সেখানেও পরিযায়ী শ্রমিকেরা তৃণমূলের সাফল্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে মনে করছে তারা।
এসআর