হোম > বিশ্ব > ভারত

যে কারণে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়া নিয়ে দ্বিধায় ভারত

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: দ্য ডন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘শান্তি বোর্ড’-এ যোগদানের আমন্ত্রণ জানালেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়ায় জড়িত হয়নি ভারত। দাভোসে ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে শান্তি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ ২০ জন বিশ্বনেতা বোর্ডের সনদে সই করলেও সেখানে ভারতের অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার এই নতুন উদ্যোগে যুক্ত হলে কাশ্মীর ইস্যু আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে আসতে পারে— এমন আশঙ্কায় নয়াদিল্লি দ্বিধায় আছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

পাকিস্তানের সংবামাধ্যম দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের এই অনীহার পেছনে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে বলে মনে করছেন অনেকেই। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বোর্ডে যুক্ত হলে ভারত-শাসিত কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক কিংবা মার্কিন নজরদারি বাড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, বোর্ডের লক্ষ্য হল গাজায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা এবং সেখানে শাসনকাজ তদারিকর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা।

তিনি বেরন, ‘এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য। আমি মনে করি আমরা এটি অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে দিতে পারি। যেমনটি আমরা গাজায় সফলভাবে করেছি।’

তবে ভারতের কোনো মহলের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে এই বোর্ডকে দাঁড় করাতে চাইছেন ট্রাম্প। এমন হলে কাশ্মীরের মতো বিতর্কিত অঞ্চলও এই কাঠামোর আওতায় আলোচনায় চলে আসতে পারে।

ছাড়া ট্রাম্প এর আগেও কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন, বিশেষ করে গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর। কিন্তু নয়াদিল্লি প্রতিবারই এসব প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবিসি হিন্দির এক প্রতিবেদন অনুসারে, ‘শান্তির বোর্ড’ এমন এক সময়ে গঠিত হচ্ছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সংস্থা থেকে সরে আসছে। এরফলে প্রশ্ন উঠেছে, বোর্ডটি জাতিসংঘকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলবে কিনা?

কিছু মহলের মধ্যে এই উদ্বেগও রয়েছে, বোর্ডটি কেবল একমেরু বিশ্বকে শক্তিশালী করবে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য থাকবে।

এই ইস্যুতে এক সম্পাদকীয়তে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দু ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসে পাকিস্তানের যোগ দেয়াকে ভারতের জন্য ‘সতর্ক সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পত্রিকাটি বলেছে, ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন এবং ইতোমধ্যে নিজের প্রথম বছরেই বহু আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাত মিটিয়ে ফেলার দাবি করেছেন।

সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ট্রাম্প যদি তার শান্তি পরিকল্পনায় কাশ্মীর ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করেন, তাহলে বোর্ড সেটি সমাধানের চেষ্টা করবে। একবার বোর্ডে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিরুদ্ধেও ভারতের আপত্তি তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আকবরউদ্দিন টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এক নিবন্ধে লিখেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বোর্ডের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং প্রতি ছয় মাস অন্তর নিরাপত্তা পরিষদকে রিপোর্ট দিতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো, এই সাময়িক ব্যবস্থা যেন স্থায়ী বৈশ্বিক কাঠামোতে পরিণত না হয়।

তবে তিনি বলেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার কোনও নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই এবং এটি গাজার বাইরেও ব্যবহার করা হতে পারে। জাতিসংঘের কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই কাঠামো অন্য সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও নেপাল ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বপালন করা রঞ্জিত রায় মনে করেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া ভারতের জন্য সহজ হবে না। বিবিসি হিন্দিকে তিনি বলেন, ‘ভারতের দোটানা বেড়েছে। গ্রহণ করলেও প্রভাব পড়বে, প্রত্যাখ্যান করলেও প্রভাব পড়বে। আমার মনে হয়, বোর্ডে যোগ দেয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। প্রথমত, ট্রাম্প নিজেই এর চেয়ারম্যান, আর তার লেনদেনভিত্তিক রাজনীতি থেকে ন্যায়বিচার আশা করা কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, এই বোর্ডে সব দেশের মর্যাদা সমান হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তা পরিষদ যখন এটি অনুমোদন করেছিল, তখন এর কাজ গাজার মধ্যেই সীমিত ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলালে এটি গাজার বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে।

দ্য হিন্দু আরও লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বাণিজ্য আলোচনা সংক্রান্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতিও হয়তো এই মুহূর্তে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারছে না দিল্লি। কারণ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছিল, তাতে ট্রাম্পের অসন্তোষের মুখে পড়তে পারে ভারত।

আসাম থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে বাঙালি মুসলিম অভিবাসীরা

তুষারপাতে বিপর্যস্ত ভারতের হিমাচল, বন্ধ ৭০০ রাস্তা

ভারতের মহারাষ্ট্রে অমুসলিমকে হজ কমিটির প্রধান নিয়োগে ক্ষোভ

ভারতে ‘ভালো মুসলিম’ হওয়ার বোঝা

ভারতের অধিকাংশ পণ্যে ইইউ’র জিএসপি সুবিধা স্থগিত, বাড়বে রপ্তানি ব্যয়

সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত

কাশ্মীরের মসজিদ-মাদরাসার তথ্য নিচ্ছে ভারত সরকার

ভারতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, আগুনে পুড়ে ৩ জনের মৃত্যু

ভারতে বিজেপির সভাপতি হলেন বিহারের নীতিন নবীন

দুই ঘণ্টার সফরে ভারতে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট