ভারতের বাংলা ভাষাভাষীর অন্যতম রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। ভারতের বিভিন্ন দল এ রাজ্য শাসন করেছেন। সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য শাসনের দায়িত্বে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে জ্যোতি বসু টানা ২৩ বছর রাজ্য শাসন করেছেন।
১৯৪৭ সালের অগস্ট মাস থেকে ১৯৫০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গের প্রধানমন্ত্রী নামে অভিহিত হতেন। তারপরই ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দটি পরিবর্তন করে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ রাখা হয়।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তিনি মাত্র পাঁচ মাস ওই পদে আসীন ছিলেন। এরপর তারই সহকর্মী ডা. বিধানচন্দ্র রায় তার স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত টানা ১৪ বছর প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন।
ওই বছর ১ জুলাই তার মৃত্যুর পর চলতি বিধানসভার অবশিষ্ট মেয়াদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন প্রফুল্লচন্দ্র সেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাজ্যে মোট চারটি জোট সরকার গঠিত হয় এবং মোট তিনবার সীমিত সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। এরপর সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বে কংগ্রেস পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিচালনা করে।
১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র নেতৃত্বে বামফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এরপর একটানা ২৩ বছর জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘসময় মুখ্যমন্ত্রিত্বের এটি একটি সর্বভারতীয় রেকর্ড। ২০১৮ সালে সিক্কিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিং প্রথম এই রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হয়েছিলেন। জ্যোতি বসুর পদত্যাগের পর তার উত্তরসূরি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পরবর্তী এক দশক রাজ্যের কমিউনিস্ট সরকারের নেতৃত্ব দেন।
২০১১ সালের নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট (ইউপিএ) বামফ্রন্টকে পরাজিত করে। ওই বছরই ১৯ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
তিনিই রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস ইউপিএ ছেড়ে বেরিয়ে আসে এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস অধিকতর আসনে জয়লাভ করে পুনর্নির্বাচিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান হলো ২০২৬ সালের ৪ মে। শাসক দল বিজেপির কাছে পরাজিত হয় তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সঙ্গে তিনিও পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া
এমবি