হোম > বিশ্ব > ভারত

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে গির্জায় হামলা, ক্ষুব্ধ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়

আমার দেশ অনলাইন

প্রতীকী ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুর এলাকার সুভাষগ্রামের বুড়ি বটতলায় একটি নির্মাণাধীন গির্জায় ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০০ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল গির্জার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সদ্য নির্মিত দুটি পিলারের ক্ষতি করে এবং মই দিয়ে টিনের ছাদে উঠে তিনটি ক্রুশ ভেঙে ফেলে বলে অভিযোগ। ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্ষুদ্র খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বাসিন্দা বর্ণালী ভূঁইয়া ও উৎপল ঘোষ জানান, ঘটনার সময় গির্জায় রং করার কাজ চলছিল। আচমকাই একদল লোক ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে এবং মই বেয়ে ছাদে উঠে ক্রুশগুলি ধ্বংস করে।

ধর্মান্তরকরণের পাল্টা অভিযোগ

আক্রান্ত সম্প্রদায়ের সদস্যদের দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের’ সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তারা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি প্রশ্ন তোলে— খ্রিষ্টান হওয়া সত্ত্বেও কেন সম্প্রদায়ের মহিলারা শাঁখা-পলা এবং সিঁদুরের মতো ঐতিহ্যবাহী বাঙালি হিন্দু প্রতীক ব্যবহার করছেন? স্থানীয় বাসিন্দা চম্পা ভূঁইয়া জানান, ২০১৭ সাল থেকে ওই এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারগুলো বংশপরম্পরায় শাঁখা-পলা এবং সিঁদুর পরে আসছেন।

টাকার লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তকরণের যে অভিযোগ হামলাকারীরা তুলেছে, তা সরাসরি খারিজ করে চম্পা বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার, মানুষকে প্রলুব্ধ করার মতো এত টাকা আমাদের কাছে কোথা থেকে আসবে?’’

অন্যদিকে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের স্থানীয় নেতা কৌশিক মুখোপাধ্যায় জানান, ‘‘শত শত স্থানীয় হিন্দুর’’ অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্মান্তকরণের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন।

প্রার্থনাস্থল নিয়ে ক্ষোভ

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত গির্জাটি ‘প্রেসবিটারিয়ান চার্চ অফ ইন্ডিয়ার’ অন্তর্গত, যা ওই এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবারের ১১৬ জন সদস্যের প্রার্থনার স্থান। এর আগে তাঁরা একটি ভাড়া ঘরে প্রার্থনা করতেন। পরে নিজেদের কেনা জমিতে গত মার্চ মাস থেকে এই ছোট গির্জাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সম্প্রদায়ের সদস্যা গীতা হালদার আক্ষেপ করে বলেন, কারও কোনো আপত্তি থাকলে তারা অনেক আগেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পারত, কিন্তু এভাবে হঠাৎ আক্রমণ কেন করা হলো?

পুলিশি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে তিন যুবককে আটক করা হয়। স্বপন পুরকাইতের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অনধিকার প্রবেশ, ক্ষতিসাধন এবং অপরাধমূলক হুমকির ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ‘বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা’র প্রতিষ্ঠাতা ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতা হেরোদ মল্লিক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৪ জুলাই একটি প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে এবং রাজ্যপালের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিতর্ক:

সম্প্রতি মে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় আসার ঠিক দুই মাস পরেই এই ঘটনা ঘটল। এই ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সিপিআইএম। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তারা অভিযোগ করেছে যে, বিজেপি ঠিক এমন বাংলারই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যেখানে গির্জা ভাঙচুর করা হবে এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি আস্কারা পাবে। ভারতের অন্যান্য অংশের ঘৃণার রাজনীতি এখন বাংলায় প্রবেশ করেছে বলেও তারা দাবি করেছে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এসআর

ভারতে বন্যার পানিতে ভেসে গেল ৩ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার

ট্রাম্পের এক শব্দে ভারতের আট লাখ কোটি রুপি হাওয়া

এনকাউন্টারে নিহত পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত, ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ বলছে বিরোধীরা

মুসলিম মেয়ে মরেছে বলেই এত আন্দোলন, মন্তব্য মন্ত্রী দিলীপের

ভারতভিত্তিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

পশ্চিমবঙ্গে কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের তদন্তে বড় মোড়, এনকাউন্টারে নিহত মূল অভিযুক্ত

জনরোষ ধামাচাপা দিতে মরিয়া শুভেন্দু সরকার

মহারাষ্ট্রে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধস, নিহত ১৩

মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণের পর খুন করল হিন্দু যুবকরা, উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পানিকে ‘অস্ত্র’ বানালে চীন কী করবে