পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক স্বেচ্ছাসেবকের বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, আমাদের চুপ করানো বা ভয় দেখানো যাবে না। আমরা উন্নত স্কুলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। সিজেপি আব্দুল ও তার পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের সিজেপি দল বাংলায় যাবে এবং নিশ্চিত করবে যে আব্দুল ও তার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।
দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আব্দুলের জন্য খুব উদ্বিগ্ন। তার বাবা বিজেপির গুন্ডাদের হাতে মারা গেছেন। তার অপরাধ কী ছিল? সে তার স্থানীয় সরকারি স্কুলের একটি সামাজিক নিরীক্ষা করার পরিকল্পনা করেছিল। আব্দুল, পুরো সিজেপি পরিবার তোমার সাথে আছে। ওই গুন্ডাদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না!’
সিজেপির আরো অভিযোগ, হামলার পর কোনো মেডিকো-লিগ্যাল মামলা শুরু করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে কোনো এফআইআরও দায়ের করা হয়নি। তারা মফিকের মৃত্যুর কারণ, হামলার ঘটনা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কথিত ব্যর্থতা—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ইন্দাস থানাকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হাফিজ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সিজেপির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির একটি প্রতিনিধি দল সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে হাফিজ ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানাতে পশ্চিমবঙ্গ সফর করবে।
সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি স্কুল পরিদর্শন করার পর ২৫ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক শেখ আবদুল হাফিজের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তার বাবা মফিক। শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সিজেপির বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট বাকুড়া জেলার করিসুন্দা এলাকায় নিজের গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে গিয়ে অবকাঠামোর পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন হাফিজ। সিজেপি অভিযোগ করেছে যে, সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসেবে চিহ্নিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোর করে হাফিজের বাসভবনে প্রবেশ করে।
বিবৃতি অনুসারে, হাসপাতাল থেকে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে হাফিজ অভিযোগ করেছেন যে, একজন স্কুল শিক্ষক তার পৌর পরিদর্শনের বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের জানিয়েছিলেন, যার ফলে পরবর্তী হামলাটি ঘটে।
পরে হামলাকারীরা হাফিজকে স্কুলের দুরবস্থা তুলে ধরার জন্য ক্ষমা চেয়ে এবং বাইরের প্ররোচনায় তিনি এসব করেছেন—এমন বক্তব্য দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করতে চাপ দেন। হাফিজ এতে রাজি না হলে তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। এতে হাফিজের ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার বাবা মফিক মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।
হামলার পর হাফিজ হাসপাতাল থেকে তার আঘাতের বিবরণ দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন এবং ক্রমাগত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কলকাতায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার বাবা পরে ১৫ আগস্ট আঘাতজনিত কারণে মারা যান।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
এমএমআর