হোম > বিশ্ব > ভারত

বাংলাদেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সম্পৃক্ততা অস্বীকার ভারতের

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে দিল্লিতে মতবিনিময়

বশীর আহমেদ, দিল্লি থেকে

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দিল্লি কোনো ধরনের সমর্থন বা সহযোগিতা করেনি। তিনি এ সময় ‘কোনো ব্যক্তির ইস্যু ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে না’ বলেও মন্তব্য করেন।

গত সোমবার বিকালে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ঢাকা-দিল্লির ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, বাণিজ্য বিনিয়োগ, পানিবণ্টন, জ্বালানি, সীমান্ত সমস্যাসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি সার্ক, বিমসটেকসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব।

গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের জোরালো সমর্থন ছিল। তার বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে একতরফা ভুয়া নির্বাচন আয়োজনে ভারতের সমর্থন দেখা গেছে। ভারতের এ নীতি দুদেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছে কি নাÑআমার দেশ-এর এমন প্রশ্নের উত্তরে বিক্রম মিশ্রি বলেন, অতীতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। বাংলাদেশে যখন যে সরকার থাকবে, তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করব। এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সব পদক্ষেপ যে বাংলাদেশের সব জনগণকে সন্তুষ্ট করেছে, তা আমরা মনে করি না। তবে এটা স্পষ্ট করেই বলি, অতীতে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কোনো ধরনের সমর্থন বা সহযোগিতা করেনি ভারত।

দিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি দুদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা। ইস্যুটি সমাধানে মোদি সরকারের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনার নাম উহ্য রেখে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে, যেখানে পারস্পরিক স্বার্থে দুদেশের সংবেদনশীলতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। আর সবকিছুর মূলে থাকবে দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণ। এই মূলনীতির ভিত্তিতে দুদেশের নেতারা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চান বলে মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের ৪০টিরও বেশি দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে। গত দেড় বছরে স্থবির (অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে) হয়ে পড়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলোকে ভারত পুনরুজ্জীবিত করে সেগুলোকে ধীরে ধীরে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। এটি চলমান রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার মধ্যে দুদেশের সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে একটি সতর্ক কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগের ইঙ্গিত। গত দেড় বছরে গতি হারানো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে এক ধরনের ‘সাধারণ বোঝাপড়া’ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার অনুরোধের বিষয়ে দিল্লির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি একাধিকবার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিটি ফলপ্রসূভাবে কাজ করেছে এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, পানি খাতে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গঙ্গা, তিস্তাসহ পানিবণ্টনের বিষয়গুলো নিয়ে যৌথ নদী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সংস্থার বৈঠক শিগগির অনুষ্ঠিত হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি এখনো ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে আছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন এক্ষেত্রে অগ্রগতি আনতে পারে কি নাÑজানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি আগে থেকে অনুমান করতে চাই না। তবে তিনি এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে চীন গত বছর থেকে একটি ত্রিদেশীয় ফোরাম করতে আগ্রহী। চলতি বছরের শুরু থেকে তিন দেশের সঙ্গে মিয়ানমারকে যুক্ত করে আরেকটি উদ্যোগেও চীন যুক্ত আছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ এবং সার্ককে পুরোদমে সক্রিয় করার বিষয়টি নিয়ে ভারতের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, সার্ককে ফলপ্রসূ করতে অতীতে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু আশানুরূপ ফল আসেনি। একটি দেশ এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটানোয় সার্ক স্থবির হয়ে পড়েছে। যে দেশটি অতীতে এখানে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করেছে, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেÑএটা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এমন প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা বিমসটেক নিয়ে আশাবাদী। বাংলাদেশ যখন এই মুহূর্তে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে, এখানে বেশকিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা দেখছি।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি দৃশ্যমান। দুদেশের সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে ভারত কীভাবে দেখেÑজানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে সেটা আমার বলার কথা নয়। এটা তারাই ঠিক করবে। আমি শুধু এটুকু বলব, কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ যেন আমাদের দুদেশের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে ব্যাহত না করে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্যও উঠে আসে, যেখানে তিনি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। রাতের আঁধারে পুশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য সম্পর্কের পথে বাধা কি নাÑজানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, মন্তব্যটি বিশেষ একটি প্রেক্ষাপটে করা হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। এ নিয়ে তিনি আর বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতের বিদ্যমান একটি প্রক্রিয়ার আওতায় লোকজনকে ফেরত পাঠানো হয়ে থাকে। সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বেশকিছু লোকের জাতীয়তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কয়েক বছর ধরে প্রায় তিন হাজার লোকের জাতীয়তা যাচাইয়ের বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বন্ধে বিএসএফ সাপ ও কুমির ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেÑভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরের সত্যতা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, খবরটি ভারত সরকারের অবস্থানের প্রতিফলন নয়।

ভারতের দেওয়া ঋণচুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বিক্রম মিশ্রি বলেন, এটি বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পসুদে ঋণের সবচেয়ে বড় পোর্টফোলিও ধারণ করছে, যার কিছু প্রকল্প বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক আবার কিছু প্রকল্পে আগে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। আমাদের মূল লক্ষ্য স্বাগতিক দেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করা। নতুন সরকার যদি নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে, তাহলে আমরা বসে সে বিষয়ে আলোচনা করতে তৈরি আছি।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য পুরোদমে ভারতীয় ভিসা চালুর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাননি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। তবে বিষয়টি দ্রুত সুরাহার জন্য ভারত পুরোদমে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের তেল কেনার উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশের তো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কাজে লাগবে না। তাদের প্রয়োজন পরিশোধিত তেল। বাংলাদেশকে আমরা বিদ্যমান সহযোগিতার আওতায় তেল সরবরাহ করছি। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা ভারতের একটি প্রধান অগ্রাধিকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এবং বিএম (বাংলাদেশ-মিয়ানমার) বিভাগের বি শ্যাম বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে ৪৮ ঘণ্টায় ২০০ মামলা, গ্রেপ্তার ৪৩৩, আটক ১১০০

ব্যক্তিগত সহকারীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী

মোদিবিরোধীরা নিশ্চিহ্ন, একদলীয় শাসনে ভারত

সহকারী হত্যাকাণ্ডের পর যে প্রতিক্রিয়া জানালেন শুভেন্দু অধিকারী

যুদ্ধ অবসানে ১৪ দফার সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

আমি পদত্যাগ করব না, বরখাস্ত করা হোক: মমতা ব্যানার্জি

গেরুয়া বুলডোজারে ত্রাসের রাজত্ব পশ্চিমবঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের দপ্তরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ২০০ মামলা