তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই জনবান্ধব বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)।
রোববার শপথগ্রহণ শেষে তার প্রথম নির্দেশে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদক নির্মূলে বিশেষ টাস্কফোর্স এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাহিনী ও হেল্পলাইন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
নিজের আবেগঘন বক্তৃতায় বিজয় সমর্থকদের উদ্দেশে তার চিরচেনা সেই ‘ইন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম’ (যারা আমার হৃদয়ে বাস করেন) বাক্যটি দিয়ে কথা শুরু করেন।
তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে তার পূর্ণ মনোযোগ থাকবে।
বিজয় বলেন, ‘কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সবকিছু ভালো হবে।’
নিজের অতীত স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা চিনি, আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি। আমি অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি, অনেকে আমাকে অপমান করেছে। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। আপনারা আমাকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন এবং গ্রহণ করেছেন।’
রাজ্যের বর্তমান ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিজয় জানান, ডিএমকে আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে রাজ্য প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপির ঋণের (২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত) বোঝা পেয়েছে।
তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জনগণের তহবিল থেকে একটি পয়সাও নষ্ট করা হবে না এবং কাউকে রাজ্য লুট করতে দেওয়া হবে না।
‘প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন যুগ’ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রবীণ চক্রবর্তী এবং বামপন্থি নেতাদের পাশাপাশি সব মিত্রকে ধন্যবাদ জানান।
গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে ১০৮টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টির কোটা পূর্ণ করতে পারেনি। সপ্তাহব্যাপী অনিশ্চয়তা শেষে কংগ্রেস ৫, সিপিআই ২, সিপিআইএম ২, ভিসিকে ২ এবং আইইউএমএল ২ বিধায়কদের সমর্থনে তার জোট ১২০ আসনে পৌঁছায়। আগামী ১৩ মে-র মধ্যে বিধানসভায় বিজয় সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ (ফ্লোর টেস্ট) দিতে হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
এএম