পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ করে এ ধরনের উদ্যোগ ফিরিয়ে নিতে ইসরাইলের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আজারবাইজানে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে এসব দাবি জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াং ই ফিলিস্তিন সংকটকে এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, সংকট সমাধানের সঠিক পথ হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। গাজায় মানবিক বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অবিলম্বে সেখানে প্রবেশের পথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া প্রয়োজন।
সব পক্ষকে দ্রুত সংলাপে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াং ই আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টার মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বাইরের শক্তির প্রভাবের বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের মধ্যে তার এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মুখপাত্রের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়। যুদ্ধের অবসানে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছাতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন দুই প্রেসিডেন্ট।
এর আগে গত মার্চে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সমালোচনা করে চীন। বেইজিং অবিলম্বে যৌথ হামলা বন্ধের দাবি জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারকে ওয়াং ই বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। ওই আলোচনায় ইসরাইলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, সম্পর্ক রয়েছে ইসরাইলের সঙ্গেও
যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কিনেছে। ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে বেইজিং।
একই সময়ে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও গত এক দশকে সম্পর্ক জোরদার করেছে চীন। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলেরও অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
এএম