ইয়াজিদি গণহত্যার ১২ বছর পরও ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সিনজারে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে। এবার ইয়াজিদি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাগদাদ। তবে কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের আপত্তি, ইরান ও তুরস্কের প্রভাব এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা সংকট সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা সিনজারে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি বাগদাদ ঘোষণা করেছে, সিনজারে প্রভাবশালী ইয়াজিদি নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। ২০১৪ সালে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ওপর ইসলামিক স্টেটের (আইএস) গণহত্যার পর থেকে অঞ্চলটিতে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়াজিদি সশস্ত্র সংগঠন সিনজার রেজিস্ট্যান্স ইউনিটস (ওয়াইবিএস) গঠিত হয়েছিল ২০০০-এর দশকে। দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার ইয়াজিদি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার লক্ষ্যেই সংগঠনটি গড়ে ওঠে।
২০১৪ সালের আগস্টে ইসলামিক স্টেট সিনজারে হামলা চালিয়ে ইয়াজিদিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা শুরু করলে ওয়াইবিএস যোদ্ধারা তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেন। ওই গণহত্যায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হন। এ ছাড়া হাজার হাজার নারী ও শিশুকে অপহরণ করা হয়।
সোমবার এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়াইবিএসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির প্রায় আড়াই হাজার স্থানীয় যোদ্ধা ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেবেন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি গত মাসে ইরাকি সংসদ সদস্য মুরাদ ইসমাইলের নেতৃত্বাধীন ইয়াজিদি কজ অ্যালায়েন্সের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সিরিয়ার ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে (এসডিএফ) দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের সঙ্গে এই পদক্ষেপের কিছুটা মিল রয়েছে।
মুরাদ ইসমাইল বলেন, ‘সিনজার পর্বতের কয়েকটি অবস্থান ইরাকি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে আজ থেকেই কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই যোদ্ধাদের কোন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সবাইকে একটি মাত্র নিরাপত্তা বাহিনীতে নেওয়া হবে না; একাধিক বাহিনীতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আজই নামের তালিকা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বাগদাদ ও কুর্দি সরকারের বিরোধ
২০১৫ সালে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (কেআরজি) পেশমার্গা বাহিনী সিনজার শহর পুনর্দখল করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে বাগদাদ-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) বা হাশদ আল-শাবি দক্ষিণ সিনজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে।
সর্বশেষ ওয়াইবিএসকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাগদাদের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য, সিনজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জাতিসংঘের সমর্থনে ২০২০ সালে বাগদাদ ও কেআরজির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়ন করা উচিত। ওই চুক্তিতে ওয়াইবিএসসহ অন্যান্য রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সিনজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল।
কেআরজির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেবার আহমেদ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেআরজির সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় ছাড়া সিনজারে নেওয়া কোনো পদক্ষেপই ভালো ফল বয়ে আনবে না।’ তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগে স্থিতিশীলতা ফিরবে না এবং বাস্তুচ্যুত ইয়াজিদিদের ঘরে ফেরার পথও সহজ হবে না।
অন্যদিকে বাগদাদ সরকার নিজেদের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান বলেন, ‘সিনজার জেলার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের চলমান পদক্ষেপগুলো আইনের শাসন জোরদার এবং অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে সরকারি ফেডারেল ও সামরিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনার বিষয়ে ইরাকি সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ।’
২০২০ সালের বাগদাদ-কেআরজি চুক্তি কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ওয়াইবিএস এবং ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই চুক্তির বিরোধিতা করে সিনজার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। অন্যদিকে তুরস্ক চুক্তিটির পক্ষে ছিল। কারণ, পিকেকের মিত্র হিসেবে বিবেচিত ওয়াইবিএসের প্রভাব কমানো ছিল আঙ্কারার অন্যতম লক্ষ্য।
২০১৭ সালের অক্টোবরে পেশমার্গা বাহিনী সিনজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে সেখানে কেআরজির প্রভাবও সীমিত হয়ে পড়ে।
সিনজারভিত্তিক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আহমদ শিঙ্গালি বলেন, ‘মূলত এই দ্বন্দ্ব দুটি সরকারের মধ্যে সংঘাত। আরও স্পষ্ট করে বললে, কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি), বিভিন্ন ইয়াজিদি, সুন্নি ও শিয়া গোষ্ঠী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সিনজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পক্ষ নিজেদের লক্ষ্য ও স্বার্থ অনুযায়ী সিনজারকে পরিচালিত করতে চায়। বাস্তবে এটি মূলত ইরান কিংবা তুরস্কের স্বার্থে পরিচালিত একটি পরোক্ষ সংঘাত।’
২০২৪ সালে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর দেশটিতে বিকল্প প্রবেশপথ হিসেবে সিনজারের কৌশলগত গুরুত্ব ইরানের কাছে কিছুটা কমেছে। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিরোধের অবসান এখনো হয়নি।
এখন বড় প্রশ্ন, বাগদাদের নতুন উদ্যোগ সিনজারের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটাতে পারবে কি না। বিশেষ করে কেআরজি নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে এবং হাজার হাজার ইয়াজিদি এখনো বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।
সংকট সমাধানে তুরস্কের ভূমিকা
সিনজার দীর্ঘদিন ধরে আঙ্কারা ও বাগদাদের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়।
পিকেকের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তুরস্ক বরাবরই সিনজারে ওয়াইবিএসের উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে। ২০১৪ সালের আগস্টে পেশমার্গা বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সিরিয়া থেকে পিকেকে যোদ্ধারা সিনজারে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের সহায়তায় বহু ইয়াজিদি আইএসের গণহত্যা থেকে প্রাণে বেঁচে যান।
সিনজার জেলার মেয়র মাহমা খলিলের মতে, ‘সিনজারকে নিজস্ব প্রশাসনসহ একটি পৃথক অঞ্চলে পরিণত করা উচিত।’
তুরস্ক বিভিন্ন সময়ে ওয়াইবিএসের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিকেকের সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়া শুরু করার পর থেকে এসব হামলা বন্ধ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ফলে ওয়াইবিএসকে ইরাকের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি মেনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আঙ্কারাভিত্তিক গবেষক ও বাবিল রিসার্চের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেহমেত আলাকা বলেন, ‘ইরাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আওতায় আনার উদ্যোগকে তুরস্ক স্পষ্টভাবে সমর্থন করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় বাহিনী নিয়ে তুরস্কের প্রকৃতপক্ষে কোনো সমস্যা নেই। তাদের প্রধান উদ্বেগ হলো পিকেকের সেই সদস্যরা, যাঁরা বাইরে থেকে এই অঞ্চলে এসেছেন। এসডিএফের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে, তেমনি স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানেও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়।’
গত ২৩ সেপ্টেম্বর তুরস্ক ও ইরাকের সরকার যৌথভাবে ঘোষণা দেয়, তুর্কি সেনাবাহিনী বাশিকার জিলকান সামরিক শিবির ইরাকি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবে। তবে এর শর্ত হিসেবে ইরাককে সিনজারে ‘নিষিদ্ধ বিদেশি উপাদানগুলোর’ উপস্থিতি বন্ধ করতে হবে।
বুধবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিনজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ইরাকি সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
পুনর্গঠন ও বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তনই বড় চ্যালেঞ্জ
ওয়াইবিএসকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার পরও সিনজারের সামনে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন প্রশাসন গঠন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া।
সিনজারে হাউস অব কো-এক্সিসটেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াজিদি অধিকারকর্মী মির্জা দিনাইয়ি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, সিনজারের অন্যান্য জটিল সমস্যার সমাধান করতে ইরাকি সরকার কতটা সক্ষম হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তী পদক্ষেপগুলো স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সব অংশীদারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। কেডিপি এবং নিনেভে অঞ্চলের সক্রিয় রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে বাদ না দিয়ে ইরাকি সরকার যদি সিনজারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা সফল হবে।’
দিনাইয়ি আরো বলেন, সিনজারের পুনর্গঠন, ক্ষতিপূরণ, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাগদাদ কতটা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের গত আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুর্দিস্তান অঞ্চলের বিভিন্ন শিবিরে এখনো ৮৯ হাজার ৭০৯ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন। তাঁদের অধিকাংশই ইয়াজিদি।
নিরাপত্তাহীনতা, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো, পর্যাপ্ত পুনর্গঠনের অভাব, জীবিকার সীমিত সুযোগ এবং ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার কারণে তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
সাংবাদিক আহমদ শিঙ্গালি বলেন, ‘সিনজারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিবিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাস্তুচ্যুত মানুষদের দুর্দশার অবসান। তারা এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি, বাড়ি ফেরার চূড়ান্ত কাগজপত্রও সম্পন্ন হয়নি। ফলে তাদের পরিস্থিতি কুর্দিস্তান অঞ্চল ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেআরজি শিবিরগুলোতে তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পারছে না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারও তাদের আইনি অবস্থান নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ প্রদান কিংবা আইএসের হামলায় শহরটিতে যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করতে পারছে না।’
মেয়র ছাড়াই চলছে সিনজার
২০২৩ সালে ইরাকে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধের কারণে সিনজারে কোনো মেয়র নেই। সম্প্রতি নিনেভে প্রাদেশিক পরিষদ মেয়র পদে মনোনয়ন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও সিনজার জেলার সাবেক মেয়র মাহমা খলিল বলেন, ‘ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী একটি প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সিনজারকে নিজস্ব প্রশাসনসহ একটি অঞ্চলে পরিণত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সিনজারের বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, বাস্তুচ্যুতদের ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান জানিয়েছেন, প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে নিনেভের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে বাগদাদ। এ জন্য এমন একটি দক্ষ স্থানীয় প্রশাসন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং জেলার বাসিন্দাদের সেবার চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
তিনি আরও জানান, সিনজারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যাতে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে সাংবাদিক শিঙ্গালির মতে, সিনজারের প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূর করা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশার অবসান ঘটানোই সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যার সমাধান না হলে স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা, শহরটির পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।