সৌদি আরবের দিরিয়াহ আর্ট ফিউচার্সে (ডিএএফ) নতুন মিডিয়া শিল্পের প্রদর্শনী ‘কনটিনিউয়াম ’২৬’- এ দেশ-বিদেশের ১৬ জন নবীন শিল্পী ও কর্মসূচির দুই পরামর্শকের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রযুক্তি, শিল্প ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে তৈরি এসব কাজের মাধ্যমে শিল্পের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা ইমার্সিভ ও মাল্টিমিডিয়া ইনস্টলেশন, আলো, শব্দ, চলমান ছবি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, মিক্সড রিয়েলিটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব কাজের মাধ্যমে বাস্তবতা ও কৃত্রিম বাস্তবতা, মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম জগতের মধ্যকার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
দিরিয়াহ আর্ট ফিউচার্সের এক বছরব্যাপী ‘এমার্জিং নিউ মিডিয়া আর্টিস্টস প্রোগ্রাম’-এর অংশগ্রহণকারীরা এসব শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। কানাডিয়ান শিল্পী লুই-ফিলিপ দেমার্স এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শিল্পী রিক ট্রিকুইনের পরামর্শনায় তারা কাজ করেছেন। প্রদর্শনীর কিউরেটর ইরিনি পাপাদিমিত্রিউ এবং সহকারী কিউরেটর বুশরা আলগামদি।
‘কনটিনিউয়াম’ নামটি শিল্পসৃষ্টির একটি চলমান ও পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়াকে বোঝায়। প্রদর্শনীতে শিল্পীদের কাজ চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে রয়েছে স্মৃতিকে একটি জীবন্ত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা, প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের বিস্তার, শরীর-অনুভূতি-উপস্থিতির সম্পর্ক এবং পুনরাবৃত্তি, ছন্দ ও সমষ্টিগত অভিজ্ঞতা।
স্মৃতি বিষয়ক কাজগুলোতে ব্যক্তিগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত স্মৃতিকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের সিদ্ধান্ত, আকাঙ্ক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের সম্প্রসারণ হিসেবে কাজ করছে, তা তুলে ধরা হয়েছে ক্ষমতা ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত শিল্পকর্মে। শরীর ও অনুভূতিকে কেন্দ্র করে তৈরি কাজগুলোতে দর্শনার্থীর ইন্দ্রিয়গত অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর পুনরাবৃত্তি ও ছন্দের কাজগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, শ্রম ও মানুষের সহনশীলতার বিষয় উঠে এসেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী নোয়েল আপিটা, নুজুদ আলবাওয়ার্দি, বাদরিয়া আলসালেম ও হরপ্রীত সারিন তাদের কাজের ধারণা ও সৃষ্টিপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় এআইয়ের প্রভাব, স্মৃতি ও সময় এবং মানুষের শারীরিক অনুভূতির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
দিরিয়াহ আর্ট ফিউচার্স মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার প্রথম নিউ মিডিয়া আর্টস কেন্দ্র। শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন ধরনের সৃজনশীল কাজের সুযোগ তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল খাত সম্প্রসারণের উদ্যোগের সঙ্গেও এর কার্যক্রম যুক্ত।
‘কনটিনিউয়াম ’২৬’ আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি এআই, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, ডিজিটাল ফটোগ্রাফি ও অন্যান্য বিষয়ে কর্মশালা, আলোচনা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক আয়োজনও থাকছে।