হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

অনলাইনের ভুয়া পোস্টে বিশ্বাস করে যেভাবে বিপদ ডেকে আনলেন লিবিয়ার অভিবাসীরা

বিবিসি

ইউএনএইচসিআর বলেছে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের পুনর্বাসনের কথিত পরিকল্পনা নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্য জাতিসংঘের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিয়েছে। ছবি: বিবিসি বাংলা

লিবিয়ায় অভিবাসী ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে জুন মাসে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের পেছনে ছিল একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট।

বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিথ্যা ওই দাবি পরে লিবিয়া, মিসর ও তিউনিসিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য ব্যবহার করা হয় আপাতদৃষ্টিতে কৃত্রিম একটি অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্ক।

ঘটনার শুরু ৩ জুন। মিসরের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়।

সেখানে দাবি করা হয়, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ‘অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে ৮ লাখ ৫০ হাজার আফ্রিকান অভিবাসীকে লিবিয়ার জনসংখ্যার মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে’।

তথ্যটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বিবিসি ২০২৬ সালের জুন মাসের শত শত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা যায়, মিথ্যা দাবিটি একই সময়ে লিবিয়া, মিসর ও তিউনিসিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি আরো ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয় একটি আপাতদৃষ্টিতে কৃত্রিম অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।

ইউএনএইচসিআর আনুষ্ঠানিকভাবে দাবিটিকে ‘সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে সংস্থাটির ওই বক্তব্য খুব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।

প্রতিবাদ, সংঘর্ষ

মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার এক দিনের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তরের বাইরে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সংস্থাটির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেখানে তাবু স্থাপন করেন এবং ফটকের সামনে বালুর স্তূপ তৈরি করেন।

বিক্ষোভকারীরা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা দাবিগুলোই পুনরাবৃত্তি করেন। তারা ইউএনএইচসিআরকে লিবিয়া ছেড়ে যাওয়ার দাবি জানান।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের পুনর্বাসনের কথিত পরিকল্পনা নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্য জাতিসংঘের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিয়েছে। এর মধ্যে ত্রিপোলিতে সংঘর্ষ এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাওয়িয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনাও রয়েছে।

উত্তর আফ্রিকায় সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নিয়ে অনলাইনে ছড়ানো ভুল তথ্যের বাস্তব জীবনে প্রভাব পড়ার এটি একটি উদাহরণ। এর আগে ভুয়া দাবির সঙ্গে মরক্কো থেকে স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরবর্তী অঞ্চল সিউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর পৌঁছে যাওয়ার ঘটনারও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

লিবিয়ায় ওই ঘটনার পরের কয়েক সপ্তাহে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানি বেড়ে যাওয়ার কথা জানান।

লিবিয়ায় আশ্রয় নেওয়া এক সুদানি সাংবাদিক আহমেদ হাসান বলেন, ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে যেকোনো সম্পর্ক এখন অভিবাসীদের বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। নিরাপত্তার কারণে তার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যে ইউএনএইচসিআর কার্ড আমাদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা এবং আমাদের ও আমাদের পরিবারের জন্য একটি ভালো জীবনের দিকে প্রথম পদক্ষেপ হওয়ার কথা, সেটিই এখন আমাদের আরো সহিংসতার ঝুঁকিতে ফেলছে।’

আহমেদ জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ত্রিপোলিতে অভিবাসীরা রাস্তায় ও কর্মস্থলে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের বাড়িতেও সরকারি কর্মকর্তা ও লিবীয় নাগরিকেরা অভিযান চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানেই যাই, ভয়ে থাকি।’

লিবিয়ায় ৯ লাখের বেশি অভিবাসী

লিবিয়া অভিবাসীদের জন্য একই সঙ্গে গন্তব্য ও ট্রানজিট দেশ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাবে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে দেশটিতে ৯ লাখ ৩০ হাজারের বেশি অভিবাসী ছিলেন। তাদের বেশির ভাগ এসেছেন সুদান, নাইজেরিয়া, মিসর ও চাদ থেকে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় এক লাখ ১২ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও ছিলেন। তাদের বড় একটি অংশ চলমান সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত সুদানি।

জুনের শুরু থেকে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়। এসব অভিযানের মধ্যে গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের ঘটনাও রয়েছে।

পূর্ব লিবিয়াভিত্তিক হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ‘লিবিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের স্থায়ী বসতি স্থাপন’ প্রত্যাখ্যান করে একটি বিবৃতি দেয়। ত্রিপোলিভিত্তিক গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটিও লিবিয়ায় অভিবাসীদের ‘বসতি স্থাপন’ ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।

বিবিসি ত্রিপোলির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

‘বসতি স্থাপনবিরোধী’ আন্দোলন

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের লিবিয়াবিষয়ক গবেষক নাদেজ লাহমার বলেন, অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করানো হচ্ছে—এমন দাবি উত্তর আফ্রিকাজুড়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর ‘বসতি স্থাপনবিরোধী’ আন্দোলনের অংশ।

তিনি বলেন, ২০২৩ সাল থেকে উত্তর আফ্রিকাজুড়ে এই আন্দোলনের বিকাশ ঘটেছে। তবে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এবং কথিত বসতি স্থাপনে তাদের ভূমিকার অভিযোগ তুলে সরাসরি জাতিসংঘকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের প্রকাশ্য প্রতিবাদ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

লাহমার বলেন, তিউনিসিয়া, মরক্কো, আলজেরিয়া ও মিসরে তিনি এই পরিভাষার ব্যবহার দেখেছেন।

তার মতে, এই আন্দোলনের মধ্যে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে শরণার্থী ও অভিবাসীদের যেকোনো ধরনের সহায়তা, স্বীকৃতি বা অধিকার দেওয়া মানেই তাঁদের স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনকে সমর্থন করা।

তবে লাহমার বলেন, ‘মানবিক সহায়তা মানেই কোনো ব্যক্তির একটি দেশে অবস্থানকে সমর্থন করা নয়।’

মিথ্যা দাবির উৎস যেভাবে ছড়াল

বিবিসি এ বিষয়ে সুরাইয়া তুয়েবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তিনি জানান, তার বক্তব্যে লিবিয়ায় অভিবাসীদের ‘বসতি স্থাপন’ নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তা আইওএম ও ইউএনএইচসিআরের নথির ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে। এর মধ্যে ইউএনএইচসিআরের লিবিয়া বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৪-ও রয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লিবিয়া সরকার ২০২৪ সালের জাতীয় আদমশুমারিতে অভিবাসীদের একটি নমুনা অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে শরণার্থীদের একটি উপগোষ্ঠীও ছিল।

তুয়েবি আদমশুমারিতে অভিবাসী ও শরণার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করাকে লিবিয়ায় তাদের ‘স্থায়ী বসতি স্থাপন’-এর মানসিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি আরো একটি লিবীয় আইনের কথা উল্লেখ করেন। ওই আইনে লিবিয়ায় বিদেশিদের অননুমোদিত বসতি স্থাপন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে অনিয়মিত অভিবাসনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

তুয়েবির দাবি, ওই আইন বাতিলের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তুয়েবি বিবিসিকে বলেন, তিনি একটি প্রচারণার অংশ। তবে তিনি ‘ভুল তথ্য প্রচারে জড়িত নন’।

ইউএনএইচসিআরের ২০২৪ সালের বার্ষিক ফলাফল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়া সরকার ২০২৪ সালের জাতীয় আদমশুমারিতে অভিবাসীদের একটি নমুনা অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এর মধ্যে শরণার্থীদের একটি উপগোষ্ঠীও ছিল।

প্রতিবেদনে এটিকে শরণার্থী, অভিবাসী ও নাগরিকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রয়োজন বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, আদমশুমারিতে বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ জাতিসংঘ লিবিয়ায় অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করাচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, এই অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য ছিল শরণার্থী, অভিবাসী ও নাগরিকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রয়োজন বোঝা।

কৃত্রিম অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্কের ভূমিকা

পরে তুয়েবির সাক্ষাৎকারের ভিডিও এক্সের একটি অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে কয়েক ঘণ্টা পরপর ২৪ ঘণ্টাই বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হতো। অ্যাকাউন্টটি আপাতদৃষ্টিতে মিসরীয় সরকারের সমর্থক বলে মনে হয়।

অ্যাকাউন্টটি প্রায় ১৩ হাজার অনুসারীর কাছে সাক্ষাৎকারে থাকা মিথ্যা তথ্য আবার তুলে ধরে। এর মাধ্যমে অভিযোগটি পুরো অঞ্চলে আরো ছড়িয়ে পড়ে।

বিবিসি অ্যাকাউন্টটির মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। অ্যাকাউন্টটি এখনো সক্রিয় এবং ব্যাপকভাবে পোস্ট করছে। তুয়েবির সাক্ষাৎকারসহ ওই পোস্টটিও অনলাইনে রয়েছে।

এই মিথ্যা দাবি এবং সেটিকে আরো ছড়িয়ে দেওয়া অ্যাকাউন্টের বিষয়ে এক্সের কাছে মন্তব্য চেয়েছিল বিবিসি। তবে প্রতিষ্ঠানটি জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিসর, তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দাবিটি ছড়িয়ে পড়ে। এটি অন্তত ১০ লাখ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছায়।

এই বর্ণনা ছড়ানো অনেক অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম আচরণের লক্ষণ দেখা গেছে। একাধিক প্রোফাইলে একই ধরনের দাবি প্রায় অভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করা হয়।

ফেসবুকে বিবিসি এমন একটি সমন্বিত কৃত্রিম অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্কও শনাক্ত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিক্ষোভের আগের এক মাস ধরে ওই নেটওয়ার্ক অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য ছড়াচ্ছিল।

নেটওয়ার্কের অ্যাকাউন্টগুলো বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করে। পরে তারা অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য আরো ছড়িয়ে দেয়।

এর মধ্যে ৩ জুন একটি পোস্টে বলা হয়, ‘আগামীকাল বিশেষ করে আল-সারাজে একটি বড় বিক্ষোভ হবে এবং সব মানুষ আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে যাবে।’

বিবিসির অনুসন্ধানে সমন্বিত কৃত্রিম কর্মকাণ্ডের বেশ কয়েকটি লক্ষণ পাওয়া যায়।

৪০টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৩৪টি ২০২৬ সালের ২ থেকে ৭ মে—মাত্র ছয় দিনের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এটি একই সময়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার ইঙ্গিত দেয়। এমন আচরণ সমন্বিত কর্মকাণ্ডের একটি সাধারণ লক্ষণ।

অ্যাকাউন্টগুলোতে ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়নি। সেখানে সাধারণ বা জেনেরিক ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। নেটওয়ার্কজুড়ে একই ধরনের পোস্টও শেয়ার করা হয়।

অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন তৈরি এসব অ্যাকাউন্ট সম্মিলিতভাবে ১৪ লাখ ৬০ হাজার অনুসারীর কাছে পৌঁছে যায়।

ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, তারা লিবিয়ার পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি দল মোতায়েন করেছে। নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্টও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ভুল তথ্য এবং অভিবাসী, মানবিক সহায়তাকর্মী ও জাতিসংঘের কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।

মেটা জানিয়েছে, বিবিসি যে অ্যাকাউন্টগুলোর কথা উল্লেখ করেছে, সেগুলো তারা তদন্ত করছে। বিবিসির যোগাযোগের পর নেটওয়ার্কটির ১১টি অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

অনলাইনের গুজবের প্রভাব বাস্তবে

অনলাইনে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি আশ্রয়প্রার্থীরা বাস্তব জীবনেও সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

আমনা নামের এক সুদানি মা ২০২৪ সালে সুদান থেকে লিবিয়ায় যাওয়ার পথে সহিংসতায় তার এক সন্তানকে হারিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে তার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

তিনি বিবিসিকে জানান, আশ্রয়প্রার্থী হওয়ার কারণেও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।

আমনার ভাষ্য অনুযায়ী, ছয়জন তরুণ তাদের বাসায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তিনি তার ১২ বছর বয়সি ছেলেকে নিয়ে থাকতেন।

তরুণেরা মা ও ছেলেকে মারধর করে। জোর করে আমনার মুখের পর্দা খুলে দেয় এবং তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে।

এরপর তারা বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তার স্বামীর ইউএনএইচসিআর কার্ড এবং ছেলের পরিচয়পত্র খুঁজে পায়। তারা দুটি নথিই ছিঁড়ে ফেলে। পরিবারের সামান্য নগদ অর্থ এবং ছেলের ব্যবহৃত একটি মোবাইলফোনও নিয়ে যায়।

আমনা বলেন, ‘আমাকে কাপড় খুলে নির্যাতন করতে দেখার পর আমার ছেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সে এখনো খুব ছোট এবং যা ঘটছিল, তা থামানোর কোনো ক্ষমতা তার ছিল না।’

এএম

বৃষ্টির ছন্দে পা থাকুক আনন্দে

পাঁচ বছরে তালেবান সরকারের অর্জন ও ব্যর্থতা: কেমন আছেন আফগানরা

রূপসায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

নিয়মিত হাঁটার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করা লেবাননের অধিকার: ইরান

সুন্দরবনে নদীতে পড়ে যাওয়া জাহাজের ক্রু জীবিত উদ্ধার

ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের ভিডিও কলে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মিরসরাইয়ে পুলিশের ধাওয়ায় গাঁজা-ফেনসিডিল রেখে পালাল মাদককারবারিরা

কেন অল্প বয়সেই মারা যাচ্ছেন বডিবিল্ডারা

রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা