হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতার হিসাব–নিকাশ পাল্টে দিল আনসারুল্লাহ

মিডল ইস্ট মনিটর

মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গাজা সংকটে আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর কর্মকাণ্ড সেই প্রশ্নকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। গাজায় দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়ের সময় বিপুল অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতার অধিকারী অনেক আরব রাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বিপরীতে আনসারুল্লাহ গাজার সঙ্গে নিজেদের সামরিক অবস্থানকে সরাসরি যুক্ত করে লোহিত সাগরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে আঞ্চলিক শক্তির হিসাব নতুনভাবে সামনে এসেছে।

আরব বিশ্বে বিপুল সংখ্যক সেনা, আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, বিদেশি সামরিক ঘাঁটি এবং বড় প্রতিরক্ষা বাজেট রয়েছে। কিন্তু গাজায় ব্যাপক ধ্বংস ও মানবিক সংকটের সময় এসব সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতির বিপরীতে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বছরের পর বছর যুদ্ধ, অবরোধ ও সামরিক চাপের মুখেও গাজার সঙ্গে তাদের অবস্থানকে যুক্ত করেছে এবং লোহিত সাগরে কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ওপর মূল্য আরোপ করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে তাদের অগ্রগতি এবং বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়া শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির বিশ্বাসযোগ্যতার ধারণাকেও বদলে দিয়েছে।

সামরিক শক্তি শুধু অস্ত্রের সংখ্যা বা আধুনিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে না। কোনো বাহিনীর সদস্যরা কেন লড়ছেন, কী উদ্দেশ্যে লড়ছেন এবং আত্মত্যাগকে তারা কীভাবে দেখছেন—এসব বিষয়ও সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা আর কার্যকর রাজনৈতিক বা সামরিক শক্তি অর্জন এক বিষয় নয়।

ইয়েমেন যুদ্ধে রিয়াদ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে এবং পশ্চিমা সামরিক সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সৌদি আরব। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও হামলার পর বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগর উপকূলে আনসারুল্লাহর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় উপসাগরীয় অস্থিতিশীলতা থেকে সৌদি তেল রপ্তানিকে দূরে রাখার বিকল্প ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরান এই দুর্বলতাকে কৌশলগত সুবিধায় পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কয়েক মাসের যুদ্ধও ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব এবং ইয়েমেনে আনসারুল্লাহর অবস্থান সৌদি আরবকে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরের চাপের মুখে ফেলেছে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি হরমুজের বিকল্প হিসেবে তৈরি হলেও সেটিও এখন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠিন হয়েছে।

উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর সামরিক ব্যয় নিয়েও তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। এসব রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, ভিন্নমত দমন ও রাজতান্ত্রিক শাসন রক্ষায় শক্তিশালী হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাদের কৌশলগত ভূমিকা অনেক বেশি সীমিত। ফিলিস্তিন ইস্যু আরব রাজনৈতিক চেতনায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে অনেক রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া বিবৃতি, সম্মেলন ও কূটনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতিও একই ধরনের সংকটের অংশ। মার্কিন কৌশল দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, জোট এবং চাপ প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব চাপ অনেক ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার, সৌদি অবকাঠামোয় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতা তারই উদাহরণ।

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বৈধতার সংকট তৈরি করেনি; বরং আগে থেকেই থাকা সেই সংকটকে দৃশ্যমান করেছে। ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো যেখানে ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী ছিল, সেখানে আনসারুল্লাহ তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্য দিতে প্রস্তুত হয়েছে—এমন একটি তুলনা তৈরি হয়েছে।

এর সবচেয়ে বড় প্রভাব তাৎক্ষণিক কোনো বিপ্লব নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বৈধতার সংকট। যখন রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যবধান বাড়ে এবং জনগণ প্রশ্ন করতে শুরু করে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষমতা আসলে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তখন সংকটটি আর শুধু সামরিক থাকে না—তা রাষ্ট্রের বৈধতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

শাসকগোষ্ঠী বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান, নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক পরামর্শক ও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু জনগণের আস্থা বা বিশ্বাস অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। ক্ষমতার উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্রের জনগণ ও নিরাপত্তা কাঠামোর সদস্যদের মধ্যে একই প্রশ্ন তৈরি হলে সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক সংকেত।

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সব পথ বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাব আল-মান্দাব নিয়ে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

মদিনায় বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামসহ ১১ কোটি টন খনিজ ভান্ডারের সন্ধান

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, লাশও ফেরত পাচ্ছে না প্রবাসীদের পরিবার

ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে মাইন বিস্ফোরণের কথা বলছে ইরান, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ডিজেল বন্ধ, বিপর্যয়ের মুখে গাজার চিকিৎসাব্যবস্থা

ইসরাইলের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ঐক্যের ডাক ইরানের

ইয়েমেনের তাইজ শহরে সৌদি জোটের হামলা, দুই শিশুসহ নিহত ৩

সৌদিতে হুথিদের হামলা, তবু কেন অস্ত্র ধরছে না মক্কা জোট

হরমুজ অবরোধে গভীর সংকটে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি