হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

এক দশকে ব্রিটেনে ৫ প্রধানমন্ত্রীর বিদায়, এবার কি স্টারমারের পালা

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সাবেক ৫ জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়ে ক্ষমতায় আসেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি স্থিতিশীল শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর লেবার পার্টিকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে দলের বড় ধাক্কার পর তাঁর নেতৃত্ব নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

স্টারমারের সমালোচকদের দাবি, তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে লেবার পার্টিকে নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবতে হতে পারে। অন্যদিকে দলের একাংশ মনে করছে, কনজারভেটিভদের মতো ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক টনি ট্র্যাভার্স বলেন, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্রেক্সিটের প্রভাব ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থাকে কঠিন করে তুলেছে। তাঁর মতে, শুধু নেতা পরিবর্তন করলেই দেশের গভীর সংকটের সমাধান হবে না।

২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে পাঁচজন কনজারভেটিভ নেতা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের বিদায়ের পেছনে ছিল বড় রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকট।

ডেভিড ক্যামেরন ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ব্রেক্সিট গণভোট আয়োজন করেন এই আশা নিয়ে যে, ব্রিটিশ জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষেই ভোট দেবে। কিন্তু গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় আসে। ফল প্রকাশের পরদিনই ক্যামেরন পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

তার উত্তরসূরি থেরেসা মে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কঠিন দায়িত্ব নেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সমঝোতামূলক চুক্তির চেষ্টা করলেও নিজ দলের কট্টর ব্রেক্সিটপন্থীদের বিরোধিতার মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত দলীয় চাপের মুখে ২০১৯ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হন বরিস জনসন ব্রেক্সিটপন্থী নেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও তাঁর সরকার কোভিড-১৯ মহামারির সময় বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। লকডাউনের মধ্যে ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি আয়োজনের অভিযোগ, যা “পার্টিগেট” নামে পরিচিত, শেষ পর্যন্ত তাঁকে ২০২২ সালে পদত্যাগে বাধ্য করে।

বরিস জনসনের পর ক্ষমতায় আসেন লিজ ট্রাস। তবে তাঁর মেয়াদ ছিল মাত্র ছয় সপ্তাহ। অর্থায়নবিহীন করছাড় পরিকল্পনা ঘোষণার পর আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি দ্রুত পদত্যাগ করেন।

এরপর ২০২২ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী হন ঋষি সুনাক। তিনি ছিলেন ব্রিটেনের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধানমন্ত্রী। তবে কনজারভেটিভ সরকারের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও জনঅসন্তোষ কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর তিনি ক্ষমতা ছাড়েন।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

এমপি

ইসরাইলে সাত বছরে ষষ্ঠ নির্বাচন, কপাল পুড়তে পারে নেতানিয়াহুর

নির্বাচনি জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে বিরোধী নেতা আইজেনকট

ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

হুথিদের হামলার জেরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন স্থগিত করল সৌদি আরব

গোপনে ইসরাইলে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করলেন হেগসেথ

অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান অ্যামনেস্টির

ইরান যুদ্ধে সহায়তা চাওয়ার মাধ্যমে ন্যাটোকে ‘পরীক্ষা’ করছিলেন ট্রাম্প

নেতানিয়াহুর সমর্থক-বিরোধী দুই পক্ষই ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়

মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে ইরান যুদ্ধ: বিশ্লেষক

সেনাবাহিনীর দায়িত্ব এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে লক্ষাধিক ইহুদি