লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের চলমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এই হামলাকে ‘নির্বিচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয় ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছেন।
প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন।
দুই নেতা লেবানন সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেন।
উল্লেখ্য, লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী (ইউনিফিল)-এর অধীনে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশেরই সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা আবারো এই হামলা বন্ধের, শান্তি পুনরুদ্ধার করার, আলোচনা পুনরায় শুরু করার এবং একটি স্থায়ী সমাধান গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এই চলমান হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
সংঘাতে দুই দেশের স্বার্থের সরাসরি যোগসূত্র টেনে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউনিফিল-এর অধীনে দায়িত্ব পালনকালে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই তাদের সেনা হারিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘লেবানন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের সেনা হারানোর অভিজ্ঞতা আমাদের উভয় দেশেরই রয়েছে।’
ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া লেবাননের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের ইউনিফিল কন্টিনজেন্টগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক ইউনিফিল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৬ সালের ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর এটি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করা হয়। বর্তমানে লেবানন ও ইসরাইলকে বিভক্তকারী ‘ব্লু লাইন’ বরাবর হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া এই বাহিনীতে সেনা পাঠানো প্রধান দেশগুলোর অন্যতম।
গত ১৭ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১৭ মে থেকে এর মেয়াদ আরো ৪৫ দিন বাড়ানো হয়। তবে এই যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে চালানো ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৩২৪ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এই নিহতের সংখ্যা আরো ৫৫ জন বেড়েছে।
মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা তুলে ধরে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের চাপ দিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, লেবাননে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
একটি তাত্ক্ষণিক যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ম্যাক্রোঁ আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান তৈরির আহ্বান জানান। লেবাননকে স্থিতিশীল করার জন্য বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়ার এই যৌথ অবস্থানকে তিনি তুলে ধরেন। বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে দেশটির ওপর চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে সক্রিয় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়টিই ম্যাক্রোঁ ও সুবিয়ান্তোর এই বৈঠকে প্রতিফলিত হয়েছে।
সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে
এএম