হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলের নির্বাচন ঘিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বাড়ার শঙ্কা

কলামিস্ট ডাউড কুটাবের বিশ্লেষণ

আরব নিউজ

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন, ইহুদি ধর্মীয় উৎসব এবং ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ফিলিস্তিনিবিরোধী সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আরো তীব্র হয়েছে।

ইহুদি ধর্মীয় শরৎকালীন উৎসব রোশ হাশানাহ, ইয়ম কিপুর ও সুক্কট শেষ হওয়ার পর ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকী সামনে আসে। একই সময়ে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি ইসরাইলি উগ্রপন্থিদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

গাজায় ইসরাইলি হামলায় নতুন করে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জলপাই ফসলের ওপর হামলা ও তা দখলের অভিযোগও তুলে ধরেছেন কুটাব।

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ ও পুরনো শহর নিয়েও উদ্বেগে অনেকে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি ইহুদি উগ্রপন্থি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে। তাদের মধ্যে নেতানিয়াহু সরকারের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনি দোকানিদের দোকানে পৌঁছানো বা দোকান খোলার ক্ষেত্রে ইসরাইলি পুলিশের বাধাও দেখা গেছে।

এই সময় ইসরাইলি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও বেড়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীর ধ্বংস ও দখলের পক্ষে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছে সাবেক ইসরাইলি সংসদ সদস্য মোশে ফেইগলিন। এসব বক্তব্যের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সরকারি নিন্দা দেখা যায়নি।

পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের পেছনে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমি ও বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করতে পারে। ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিয়ে পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার পথ সহজ করার চেষ্টা চলছে।

ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে পশ্চিম তীরে ই১ নামে পরিচিত এলাকায় ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের জন্য চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরাইলি অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচনি প্রচারে বিষয়টি ব্যবহারের আশঙ্কায় চুক্তি স্বাক্ষর পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ হলে ভবিষ্যতে একটি ধারাবাহিক ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা আরো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ ১৯৬৭ সালে ইসরাইলের দখল করা এলাকায় উৎপাদিত পণ্য ও সেবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সময়ে ইসরাইল জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

নেতানিয়াহুর সরকার দুর্বল হয়ে পড়লে বা ক্ষমতা হারালেও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের কিছু নীতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তন হলে এসব কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থন ও প্রচার কিছুটা কমতে পারে।

ঘর ছাড়ার সময় সঙ্গে যা নিয়েছিল গাজাবাসী

ইসরাইলের চাপে জেরুজালেম থেকে সরানো হলো ব্রিটিশ কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড

পাল্টা অভিযানে ১৮৬০ হুথি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইয়েমেন সেনাবাহিনীর

জলপাই সংগ্রহে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ফিলিস্তিনি কৃষক

৩ বছরের জান্নাতকে পিটিয়ে হত্যা করল বাবা, সিরিয়াজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে

কাতার উপকূলে ট্যাংকারে হামলা, বেশ কয়েকজন হতাহত

কারাগারের বিচ্ছিন্ন সেলে ৪৬ দিন ধরে বন্দি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

সৌদি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি হুথিদের

ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান না ট্রাম্প