লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। শুক্রবারের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার পর শনিবার ভোর রাতেও দেশটির পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের সরকার ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, শনিবার মধ্যরাতের কিছু আগে সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন পার্বত্য এলাকা নাবি সেরিজে অন্তত পাঁচটি বিমান হামলা চালানো হয়। ব্রিটাল শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই এলাকা গত ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে তুলনামূলক শান্ত ছিল।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরেও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, প্রথমে শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে হামলা হয়, পরে শহরের ভেতরে আরেকটি স্থানে আঘাত হানে ইসরাইলি বাহিনী। এতে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
হামলার আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, বুর্জ রাহাল গ্রাম ও টাইরের দুটি এলাকা খালি করতে হবে, কারণ সেখানে হিজবুল্লাহর স্থাপনা রয়েছে বলে দাবি করে ইসরাইল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ছয়জন উদ্ধারকর্মী ও একটি শিশু রয়েছে। দেইর কানুন আল-নাহর গ্রামে হামলায় রিসালা স্কাউটস সংগঠনের দুই উদ্ধারকর্মী ও এক সিরীয় কিশোরী নিহত হয়। সংগঠনটি হিজবুল্লাহ-সমর্থিত আমাল আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
এর আগে দক্ষিণাঞ্চলের হানাওয়ে শহরে আরেক হামলায় হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ ইসলামিক হেলথ কমিটির চার সদস্য নিহত হন।
অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সীমান্তের কাছে “সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা” দুই সশস্ত্র ব্যক্তিকে বিমান হামলায় হত্যা করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইলে ইসরাইলি সেনা অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির পার্লামেন্টারি ব্লকের প্রধান মোহাম্মদ রাদ সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, “যুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তিতে হতাশ হয়ে ইসরাইল এখন গ্রাম ধ্বংস ও মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার পথ বেছে নিয়েছে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট নয়জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে লেবানের শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ ও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল দাবি করছে, এসব হামলার লক্ষ্য হিজবুল্লাহর অবস্থান।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩,১১১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘাতে তাদের ২২ জন সেনা নিহত হয়েছে।
সূত্র: এএফপি
এসআর