সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর এজ-জোর প্রদেশে তিন বছরের শিশু জান্নাত আল-আফিসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশটির শিশু ও নারীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে তার বাবা পিটিয়ে হত্যা করেন বলে সিরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জান্নাতকে হত্যার আগে তার পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবাকে এর আগে আটকও করা হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আগের নির্যাতনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আদালতের আদেশে শিশুটির হেফাজত আবার বাবার কাছে ফিরে যায়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর বাবা শিশুটিকে মারধর করেন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষায় তার মাথার খুলি ভেঙে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এতে তার মৃত্যু হয়েছে। দেইর এজ-জোরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি সিরিয়াজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটির ওপর আগের নির্যাতনের অভিযোগের পরও কেন তাকে এমন পরিবেশ থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়নি। সিরিয়ার নারী অধিকার সংগঠন ইকুইটি অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট-ইইর প্রধান হিবা এজেদ্দিন বলেন, দেশটির আইনে নির্যাতন, হুমকি, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবাও কাজ করছে। তবে দেশে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক সহিংসতা আইন কার্যকর হয়নি।
তার মতে, মূল সমস্যা হচ্ছে আইন ও বাস্তব সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান। কোনো নারী বা শিশু নির্যাতনের অভিযোগ করলে শুধু অভিযোগ গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়। তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিশেষ করে নির্যাতনের অভিযোগ যখন কোনো অভিভাবক বা পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে আসে, তখন শিশুর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
এর আগে সিরিয়ায় শিশু হত্যার কয়েকটি ঘটনা দেশটির শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছিল। আগস্টে সিরিয়ার বিচারমন্ত্রী মাজহার আল-ওয়াইস জানিয়েছিলেন, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করতে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা সংসদে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।
জান্নাত হত্যার ঘটনা সেই আইনের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অধিকারকর্মীদের মতে, নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।