হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক কারা

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: মিডল ইস্ট আই

ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার সময় যারা নাকবা বা মহাবিপর্যয়ের মধ্যেও নিজ ভূখণ্ডে থেকে গিয়েছিলেন, মূলত তাদের বংশধররাই আজকের ফিলিস্তিনি নাগরিক। ইসরাইলি নাগরিকত্ব থাকলেও ভূমি, আবাসন, শিক্ষা ও সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার।

এত সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সমান নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়েছেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

তাহলে, ইসরাইলের এই ফিলিস্তিনি নাগরিক কারা? তারা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন এবং দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন?

নাকবা থেকে বৈষম্যের ইতিহাস

১৯৪৭ সালের আগে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল ফিলিস্তিনি আরব। এই ভূখণ্ড বর্তমানে ইসরাইল, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ে গঠিত।

১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে জায়নবাদী মিলিশিয়া বাহিনী এবং পরবর্তীতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালায়। ফিলিস্তিনিরা একে ‘নাকবা’ বা বিপর্যয় বলে অভিহিত করে।

১৯৪৭-৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার সময় লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন। তাদের অনেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিলেও প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি ইসরাইলের ভূখণ্ডে থেকে যান। তাদের একটি বড় অংশ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে ইসরাইলে ফিলিস্তিনি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। তাদের অধিকাংশ মুসলিম; পাশাপাশি খ্রিষ্টান ও দ্রুজ সম্প্রদায়ের মানুষও রয়েছেন।

সামরিক শাসন ও প্রতিরোধ

১৯৪৮ সালের পর ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও, তৎকালীন সরকারগুলো তাদের সন্দেহের চোখে দেখত এবং তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালাত।

১৯৪৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তারা সামরিক শাসনের অধীনে ছিলেন। চলাচলে বিধিনিষেধ, কারফিউ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধার মুখে পড়েন। অথচ ইহুদি নাগরিকরা পরিচালিত হতেন বেসামরিক আইনের মাধ্যমে। ১৯৫৬ সালে কাফর কাসেমে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নারী-শিশুসহ ৪৯ জন নিহত হন। ১৯৭৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হন। দিনটি ‘ভূমি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। ২০০০ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় বিক্ষোভে ইসরাইলি পুলিশের গুলিতে আরও ১৩ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হন।

আইনগত বৈষম্য ও সংকট

ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইসরাইলের বিভিন্ন আইন ও নীতিতে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য করা হয়। ১৯৫০ সালের ‘অ্যাবসেন্টিজ প্রপার্টি ল’–এর মাধ্যমে বহু ফিলিস্তিনির পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

২০১৮ সালে পাস হওয়া ‘নেশন-স্টেট আইন’ ইসরাইলে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কেবল ইহুদি জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারণ করে। সমালোচকদের মতে, এ আইন ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমান অধিকারের প্রশ্নকে আরও জটিল করেছে।

এছাড়া ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তের হারও ইহুদি অধ্যুষিত এলাকার তুলনায় কম। ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে সংকটের অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ করেন। তবে ইসরাইলি সরকার এ সংকটের দায় অস্বীকার করে।

রাজনীতিতে প্রভাব কতটা

বৈষম্য ও দখলদারত্বের বিরোধিতা করে ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। হাদাশ, বালাদ, তা’আল ও রা’আম-তাদের সমর্থনপুষ্ট উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল। ২০২০ সালের নির্বাচনে যৌথ তালিকা ১৫টি আসন পেয়েছিল।

২০২১ সালে রা’আম দল নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। দলটির চারটি আসন ওই সরকারের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে হাদাশ, বালাদ ও তা’আল আবার যৌথ তালিকায় এক হয়েছে; রা’আম রয়েছে আলাদা। তাদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব সরকার গঠন ও জোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচনী প্রভাবকে বাস্তব অধিকার ও বৈষম্য নিরসনে রূপান্তর করতে পারবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরএ

হরমুজে মাইনের আঘাতে ৩ তেলবাহী জাহাজে আগুন

ইসরাইলে আরব ভোট বাড়াতে কাতার-তুরস্কের অর্থায়নের অভিযোগ, শপথ পেছানোর চক্রান্ত

হরমুজে মার্কিন গুপ্তচর ড্রোন এমকিউএম-১৭০ আটকানোর দাবি ইরানের

বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় সৌদির ১৫১ গবেষক

খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের সহাবস্থান বজায় রাখা ছাড়া লেবাননের অস্তিত্ব টিকবে না: প্রেসিডেন্ট আউন

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আগুন

কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর দায়িত্ব সীমিত, যুদ্ধের ক্ষমতা কি থাকবে

যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইতিহাসের ভুল পথে নেতানিয়াহু, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান ওলমার্টের

এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা