যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শেষ হওয়ার পর একে ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন হামলার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কা দূর করতে কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এছাড়া মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।
বৈঠক শেষে আব্বাস আরাগচি বলেন, এই আলোচনা চালিয়ে নেওয়া যেতে পারে এবং এতে একটি ঐকমত্যের ইঙ্গিতও রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আলোচনা কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট রাজধানীগুলোর সঙ্গে পরামর্শের পর। আলোচনার ধারাবাহিকতা নিয়ে মনে হচ্ছে একটি ঐকমত্য রয়েছে।’
তিনি আরো জানান, কয়েক ঘণ্টার নিবিড় পরামর্শের পর একটি ইতিবাচক পরিবেশে এই পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে একাধিক পরোক্ষ বৈঠক ও দফায় দফায় পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল বুসাইদি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং দুই পক্ষের বার্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি আদান–প্রদানে সহায়তা করেন।
আরাগচি বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইরানের অবস্থান ও উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি জনগণের স্বার্থ, তাদের অধিকার এবং যে সব বিষয় বলা প্রয়োজন ছিল, সবই অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে শোনা হয়েছে অপর পক্ষের বক্তব্যও।’
পরবর্তী দফা আলোচনার সময় ও পদ্ধতি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে পরবর্তী পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের পর আট মাস ধরে যে গভীর অনাস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রথম চ্যালেঞ্জ বলে জানান তিনি। ইরানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনাস্থা দূর করতে পারলেই কেবল এমন একটি নতুন সংলাপের কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে।’
আলোচনাগুলো কেবল পারমাণবিক ইস্যু ঘিরেই সীমাবদ্ধ বলে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের আলোচনা শুধু পারমাণবিক বিষয়েই কেন্দ্রীভূত, অন্য কোনো বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলছি না।’ পারমাণবিক আলোচনা অবশ্যই শান্ত পরিবেশে, উত্তেজনা ও হুমকিমুক্ত অবস্থায় হতে হবে বলেও পরিষ্কার করেন আরাগচি।
সূত্র: আল জাজিরা