হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

‘সান ডিয়েগোর মসজিদটি সব সময় নিরাপদ মনে হতো’

বন্দুক হামলায় নিহত ৩

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’তে চালানো প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে স্তব্ধ ও শোকাচ্ছন্ন করে তুলেছে। শোকাহত বাসিন্দারা ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া (ইসলাম-বিদ্বেষ) নিয়ে বছরের পর বছর ধরে দিয়ে আসা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার জন্য নগর নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

গত সোমবার জোহরের নামাজের ঠিক আগে মসজিদের বাইরে দু’জন বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে আমিন আবদুল্লাহ (৫১), নাদির আওয়াদ (৫৭) এবং মনসুর কাজিহা (৭৮) নিহত হন। কাজিহা স্থানীয় মহলে পরম শ্রদ্ধায় ‘আবু ইজ্জ’ নামে পরিচিত ছিলেন।

হামলাকারীদের কাছ থেকে উগ্রপন্থি লেখা পাওয়ার পর পুলিশ ও এফবিআই এই ঘটনাটিকে ‘হেট ক্রাইম’ বা ঘৃণাঞ্জনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারী দু’জন নব্য নাৎসি প্রোপাগান্ডা এবং ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ গণহত্যাসহ অতীতে মুসলিমদের ওপর হওয়া বিভিন্ন হামলার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিল।

সান ডিয়েগোর মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকের জন্য এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া ভয়কে আরো গভীর করেছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের মুসল্লি ও সান ডিয়েগোর আইনজীবী ওসামা শাবাইক বলেন, ‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটি হয়তো সাধারণ কোনো ঘটনা, কেউ হয়তো খেলনা বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়েছে। এর আগেও বহুবার এমন হয়েছে, কেউ মসজিদের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় খেলনা বন্দুক থেকে গুলি ছুড়েছে বা মসজিদে কিছু ছুড়ে মেরেছে। কিন্তু এরপর আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করে বলল, ‘তুমি কি খবর দেখেছ? আমিন মারা গেছে।’ আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।’

কাউন্টির সবচেয়ে বড় এই ইসলামিক সেন্টারের অধীনে একটি স্কুল রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৪০ জন শিশু পড়াশোনা করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মসজিদের নিরাপত্তা কর্মী আমিনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করা সম্ভব হয়, যা বড় ধরনের হতাহত এড়াতে সাহায্য করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত আমিন, আওয়াদ ও কাজিহাকে বীর হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা অন্যদের বাঁচাতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

মেয়র টড গ্লোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ

গত বৃহস্পতিবার নিহতদের জানাজায় অংশ নিতে ক্যালিফোর্নিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ মসজিদে সমবেত হন। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো জানিয়েছে।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কায়ার) জানায়, ২০২৪ সাল থেকে তারা অন্তত ৮ হাজার ৬৫৮টি ইসলামোফোবিয়া এবং আরববিদ্বেষী বৈষম্যের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার স্নাতক শিক্ষার্থী সামার ইসমাইল বলেন, তারা শত্রুতা বৃদ্ধির বিষয়ে বারবার কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়, নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং স্কুলগুলোকে এই আরববিদ্বেষী ও ইসলামোফোবিয়ার ভয়াবহতা বোঝানোর চেষ্টা করে আসছি।’

অনেক বাসিন্দা সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইসরাইলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই মেয়র ইতোপূর্বে ফিলিস্তিনপন্থীদের সমালোচনা করেছেন এবং মুসলিমবিদ্বেষী ইহুদিবাদী গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হয়েছেন। সোমবার মেয়র যখন মসজিদ পরিদর্শনে যান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন, তখন এক স্থানীয় বাসিন্দা তাকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মুসলিম ভাই-বোনেরা কতদিন ধরে আপনার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে? যখন আমরা বলছিলাম আমাদের সম্প্রদায় কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন আপনি কোথায় ছিলেন?’

শাবাইকও মেয়রের সমালোচনা করে বলেন, ‘মেয়র গ্লোরিয়া এমন কেউ নন যাকে আমরা আমাদের মুসলিম স্পেসে স্বাগত জানাব। তিনি বছর খানেক আগেই মুসলিম সম্প্রদায়ের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।’

‘নিরাপত্তার মায়া ভেঙে গেছে’

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা মিস করেছিল কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শাবাইক। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজনের মা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছিলেন তার ছেলে আত্মঘাতী প্রবণতায় ভুগছে এবং তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।

শাবাইক আরো জানান, কেইন ক্লার্ক নামের এক বন্দুকধারী হামলার আগে অনলাইনে যেসব হুমকি দিয়েছিল, সে সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি এক মাস আগে একজন ব্যক্তি এফবিআই-কে কেইন ক্লার্ক সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ক্লার্ক ডিসকর্ড অ্যাপে সেই বন্দুক এবং বুলেটপ্রুফ ভেস্টের ছবি পোস্ট করছিল, যা সে এই হামলায় ব্যবহার করেছে।’

তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাছে সন্দেহভাজনদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে পূর্বে কোনো তথ্য ছিল কি-না, তা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।

এই হামলা অনেক মুসল্লির মনের ভেতর থাকা নিরাপত্তার অনুভূতিকে চুরমার করে দিয়েছে। শাবাইক বলেন, ‘৯/১১ এর সময় আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম। আমরা সবসময় এটা জেনেই বড় হয়েছি আমাদের পিঠে একটি লক্ষ্যবস্তু আঁকা আছে, তবে মসজিদটি সবসময় সেই ভয় থেকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে হতো।’

ইসলামিক সেন্টারটিকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে বর্ণনা করে ইসমাইল বলেন, ‘নিরাপত্তার সেই মায়া এখন ভেঙে গেছে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় আরো জেঁকে বসেছে।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এএম

তেহরানের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া ট্রাম্পের ‘কোনো বিকল্প নেই’

আরাগচির সঙ্গে পাকিস্তান সেনাপ্রধানের বৈঠক

ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্লোটিলার কর্মীদের ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ১০

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি রক্ষায় মরিয়া মধ্যস্থতাকারীরা

কাতারের মধ্যস্থতায় খুলছে হরমুজ প্রণালি

সংবেদনশীল অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতি

ফের ইরান যুদ্ধ শুরু না করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ তিন মুসলিম দেশের

গবেষণা কেন্দ্রে হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলল ইরান

ইরানে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭ হাজার ২০০ জনকে জীবিত উদ্ধার