গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সমন্বয়ের প্রধান সংকট এখন ইসরাইলি সামরিক পদক্ষেপের জবাবদিহি ও গোয়েন্দা তথ্যের স্বচ্ছতা—এমন মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের চেয়ারম্যান রব আরলেট।
তার প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সত্যিই শান্তি চান কি না।
আরলেট বলেন, নেতানিয়াহু ও ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিজেদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সময় হামলা চালাতে আগ্রহী থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ইসরাইলের একতরফা সামরিক অভিযান গাজায় বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে ট্রাম্প মনে করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প চান ইসরাইলি বাহিনী কিছুটা পিছু হটুক, যাতে হামাস তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুযোগ পায়।
তবে হামাস প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন আরলেট। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তার প্রতি তার অঙ্গীকার বজায় রাখবে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। তিনি একজন দক্ষ সমঝোতাকারী এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরাইলের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ট্রাম্প হয়তো নেতানিয়াহুর চেয়েও বেশি বিশ্বাসযোগ্য। এখন যুক্তির ও শান্তির কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
তবে শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথ নিয়ে একমত হতে পারবেন?