যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানাচ্ছে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এক মাসে— ইরানে অন্তত ২১৭ শিশুসহ এক হাজার ৪৬৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে ১২ হাজারেরও বেশি বোমা বর্ষণ করেছে এবং শুধু তেহরানের ওপরেই ফেলেছে ৩৬০০টি বোমা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানাচ্ছে, তারা ইরানজুড়ে নয় হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন ও ইসরাইলি হামলাগুলোর অনেকগুলোই লক্ষ্য করেছে পুলিশ স্টেশন, বাসিজ মিলিশিয়া ভবন, পুলিশ সদরদপ্তর, সামরিক ও পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, সেফ হাউস, আইআরজিসি সদস্যদের বাসভবন, সম্ভাব্য গোলাবারুদ মজুতস্থল এবং চেকপয়েন্টগুলোকে।
এসব লক্ষ্যবস্তুর অনেকই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত।
বাসিন্দারা বিবিসি আই-কে বলেছেন, আবাসিক এলাকায় হামলার ফলে ক্ষোভ আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমনকি তাদের মধ্যেও, যারা আগে ইরানি সরকারের সমালোচক ছিলেন।
বিবিসি এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত ঘটনাগুলো নিয়ে আইডিএফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আর কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরানও যুদ্ধের মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে—যেমন বিমানবন্দর ও হোটেল—বিশেষ করে ওয়াশিংটন–মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোতে।
তেহরানে বাসিন্দারা ইরানি কর্তৃপক্ষের যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবিসিকে বলেন, মৌলিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ—যেমন জনশরণার্থী কেন্দ্র, সরিয়ে নেওয়ার সহায়তা, বা বাস্তুচ্যুতদের অস্থায়ী আবাসন—এর দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে এবং চলমান ইন্টারনেট বিভ্রাটের মধ্যে অনেকেই নিজেদের অসুরক্ষিত ও অনিশ্চিত মনে করছেন।বিশেষ করে পরবর্তী হামলা কখন বা কোথায় হবে তা না যেখানে জানা সম্ভব নয়।
ইরানি সরকার এখনো দেশজুড়ে কোনো সমন্বিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রটোকল প্রকাশ করেনি।