গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের ওয়াদি গাজা এলাকায় ইসরাইলি হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার সকালে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েতকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। ১০ অক্টোবরের কথিত যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৯ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে তেল আবিব।
শুক্রবার ও শনিবারের দুই দিনের ভয়াবহ হামলার পরের দিনই এমন হামলা করল ইসরাইল। যেখানে আশ্রয়কেন্দ্র, বাস্তুচ্যুতদের আবাসস্থল, একটি পুলিশ কেন্দ্র এবং আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে হামলা চালিয়ে ৩৭ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছিল ইসরাইল।
আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের একটি চিকিৎসা সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, ওয়াদি গাজা এলাকায় চালানো ইসরাইলি হামলায় একজন নিহত হন এবং দুইজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ইসরাইলি ড্রোন ওয়াদি গাজার উত্তরে বেসামরিক লোকজনের জমায়েত লক্ষ্য করে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ওই এলাকা আগেই ইসরাইলি সেনারা খালি করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে পৃথক ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুক্তি অনুযায়ী গাজা সিটির উত্তর-পূর্বে ইসরাইলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। একই সময় সামরিক যান ও ক্রেন থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইসরাইলি সামরিক যান রাফাহ শহরের পশ্চিমাংশ এবং বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বদিকে সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গুলি চালিয়েছে। পাশাপাশি উত্তর গাজার উপকূলের কাছে সাগরের দিকে ইসরাইলি নৌবাহিনীও গুলিবর্ষণ করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৪০৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই বছরব্যাপী ইসরাইলি আগ্রাসন শেষ হয়। ওই আগ্রাসনে প্রায় ৭১ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি আহত হন। হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসাবে পুনর্গঠনে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।