সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে মিসর। এ লক্ষ্যে সৌদি আরবের অনুরোধ পেলে দেশটির প্রতিরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট। তবে ইয়েমেনে হামলা চালানো বা হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে কায়রো।
মিসরের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনের মূল উদ্দেশ্য আরব অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং সৌদি ভূখণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই সিদ্ধান্তকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সৌদির অনুরোধ পেলেই সেনা পাঠাতে পারবে মিসর
মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি এর আগে বলেছিলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তার দেশ। তবে সামরিক সহায়তার বিষয়টি সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ওপর নির্ভর করবে।
মিসরের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের বাইরে যুদ্ধ মিশনে সশস্ত্র বাহিনী পাঠাতে পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন। ৫৯৬ সদস্যের পার্লামেন্টে এ জন্য অন্তত ৩৯৮ জনের সমর্থন প্রয়োজন।
সংসদের অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে অবিলম্বে সেনা পাঠানো হবে। বরং সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাইলে প্রেসিডেন্ট সিসি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। কতজন সেনা পাঠানো হবে, কত দিন তারা দায়িত্ব পালন করবেন কিংবা তাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হুথিদের হামলায় চাপে সৌদি আরব
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেও বিঘ্ন ঘটেছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছে। গত ১৮ অক্টোবর মিসরের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সিসি।
মিসরের অবস্থান হলো, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা দেশটির নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষাও কায়রোর অন্যতম অগ্রাধিকার।
সামরিক সহায়তা নিয়ে মিসরেই বিতর্ক
সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন থাকলেও মিসরের অভ্যন্তরে সেনা পাঠানোর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মিসরীয় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি সামরিক সহায়তার প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দলটির বক্তব্য, প্রস্তাবিত অভিযানের লক্ষ্য, মেয়াদ, ব্যয় এবং মিসরীয় সেনাদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানালেও অনির্দিষ্ট মেয়াদের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে দলটি।
এদিকে মিসরের আল-আজহারও আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যস্থতা উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে মিসর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কায়রোর ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী, এই সহায়তা হবে প্রতিরক্ষামূলক—ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা বা হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো এর উদ্দেশ্য নয়।
সূত্র: ভয়েস অব এমিরেটস ও দ্য ন্যাশনাল