ভোর সাড়ে ৫টা। সূর্য পুরোপুরি তখনো ওঠেনি। কিন্তু ১৫ বছর বয়সি মাহমুদ তখনই আড়মোড়া ভেঙে ঘুম থেকে উঠে পড়ে। তার বিছানা খুব আরামদায়ক কিছু নয়। গাজার আরো লাখ লাখ মানুষের মতোই জনাকীর্ণ তাঁবুতে পাতলা তোশকে ঘুমিয়ে ছিল সে।
বিশ্বের আর সব শিশুর মতো মাহমুদ স্কুলব্যাগ গুছিয়ে স্কুলে যেতে তৈরি হয়নি। বরং ছিঁড়ে যাওয়া একটি চটের বস্তা সে তুলে নেয়। বস্তা নিয়ে খান ইউনুসের রাস্তায় সে নিজের পরিবারের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করে।
বস্তার ভারে কড়া পড়ে যাওয়া হাত দেখতে দেখতে মাহমুদ বলে, ‘বস্তা এখন খালি; কিন্তু এতে কিছু ভরার আগেই আমার তা ভারী মনে হয়। হাঁটার আগেই আমার পিঠে ব্যথা শুরু হয়।’
কিন্তু বেঁচে থাকার প্রয়োজনে শৈশবের চাহিদা ও শিক্ষাকে উপেক্ষা করেই তাকে রাস্তায় বের হতে হয়। ইসরাইলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনের জেরে গাজার অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ ফিলিস্তিনিরা জীবনসংগ্রামে নামতে বাধ্য হচ্ছে। খান ইউনুসের রাস্তায় খুঁজে খুঁজে মাহমুদ তার বস্তায় নাইলন, কার্ডবোর্ড ও লাকড়ি কুড়িয়ে নেয়।
সে বলে, ‘কখনো কখনো একখণ্ড লাকড়ি খুঁজতেই ছয় ঘণ্টা হাঁটা লাগে। ধ্বংসস্তূপের ধুলা আমার ফুসফুসে যায়। রাতভর আমি শুধু কাশতে থাকি। কিন্তু আমার বসে থাকলে চলে না। রুটি বানানোর মতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে।’
গত বছর ইসরাইলি বিমান হামলায় মাহমুদের বাবা নিহত হন। মায়ের বড় সন্তান হিসেবে এখন পরিবারকে রক্ষণাবেক্ষণের ভার তার কাঁধেই পড়েছে। কম বয়সি হলেও মাহমুদ আর নিজেকে শিশু হিসেবে বিবেচনা করে না। সে বলে, ‘মা আমার জন্য অপেক্ষা করেন কখন আমি ফিরে যাব এবং তিনি আগুন জ্বালানোর মতো কিছু পাবেন। যদি অতিরিক্ত কিছু সংগ্রহ করি, তাহলে তা বাজারে বিক্রি করি।’
গাজার আর সাধারণ মানুষের মতোই মাহমুদের গল্প, যা ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে স্কুল ভবন ধ্বংস ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।