এক ‘অস্বাভাবিক’ বাস্তবতার গল্প
গাজা সিটির ধ্বংসস্তূপ আর স্তূপীকৃত আবর্জনার মাঝে হঠাৎ চোখে পড়বে সারিবদ্ধ নতুন ও আধুনিক ক্যাফে-রেস্তোরাঁ। কাচের দেয়াল, দামি আসবাব আর ঝলমলে আলোয় সাজানো এসব প্রতিষ্ঠান দেখে মনে হতে পারে গাজায় হয়তো স্বাভাবিক জীবন ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলপন্থি অ্যাকাউন্টগুলো এসব ছবি ব্যবহার করে দাবি করছে, গাজায় কোনো গণহত্যা হয়নি এবং মানুষ সেখানে বেশ ভালো আছে।
তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্প্রতি গাজা সিটি সফরকারী এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে উঠে এসেছে এই তথাকথিত চাকচিক্যের পেছনের অন্ধকার দিক। তিনি জানান, যুদ্ধের আগে গাজার সাধারণ মানুষ ক্যাফেতে যাওয়ার সামর্থ্য রাখলেও এখন তা দুঃস্বপ্ন। এই নতুন বিলাসবহুল স্থাপনাগুলো যুদ্ধের মুনাফাখোরদের দ্বারা নির্মিত। যারা চোরাচালান, লুটতরাজ এবং পণ্য মজুত করে এই যুদ্ধের মধ্যে ধনী হয়েছে, তারাই মূলত এসবের মালিক ও গ্রাহক।
গাজার বিশাল এক জনগোষ্ঠী এখন তাঁবুতে বসবাস করছে। তাদের বিদ্যুৎ, পানযোগ্য পানি বা জীবিকার কোনো সংস্থান নেই। সেখানে এমন এক অসম সামাজিক কাঠামো তৈরি হয়েছে যেখানে একদিকে একদল মানুষ যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে বিত্তবান হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ত্রাণ আর অনাহারের সঙ্গে লড়াই করছে।
একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, যুদ্ধের আগে যে খাবারের বিল ছিল সামান্য, এখন তার জন্য গুণতে হচ্ছে তিন গুণেরও বেশি দাম। যেখানে যাতায়াত ভাড়া এবং একবেলার সাধারণ খাবারের খরচ বর্তমানে গাজার সাধারণ মানুষের কাছে একটি বিশাল অঙ্কের অর্থ।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার এই বিলাসবহুল ক্যাফেগুলো স্বাভাবিকতার লক্ষণ নয়, বরং এটি চলমান অস্বাভাবিকতা এবং ধ্বংসের মাঝে এক গভীর সামাজিক বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। যারা এই বিলাসিতা উপভোগ করছেন, তারাও শেষ পর্যন্ত ট্রমা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর থেকে মুক্ত নন।
সূত্র: আল-জাজিরা
এএম