হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে আমিরাত

শীর্ষ দুই মার্কিন কূটনীতিকের স্বীকারোক্তি

আমার দেশ অনলাইন

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। ছবি: এপি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ কূটনীতিক।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ সোমবার নিউইয়র্কে ইসরাইলি মিশনে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলের দেওয়া আয়রন ডোম ব্যবহার করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োম তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর একদিন পর ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও তেল আবিবে এক অনুষ্ঠানে একই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইসরাইল সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়রন ডোম ও তা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল পাঠিয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে।

গত মাসে প্রথমবারের মতো মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ইসরাইল ইউএইতে আয়রন ডোম মোতায়েন করেছে। পরে বিষয়টি টাইমস অব ইসরাইলকেও নিশ্চিত করেন এ বিষয়ে অবগত দুই আরব কূটনীতিক। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই প্রথম অন্য কোনো দেশে ইসরাইলের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হলো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘনিষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি বিমান বাহিনী দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে ওঠা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা চালায় বলেও জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইসরাইল সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি আয়রন ডোম এবং তা পরিচালনার জন্য কয়েক ডজন সেনা সদস্য পাঠায়।

ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সংঘাত চলাকালে ইরান দেশটির দিকে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০–এর বেশি ড্রোন ছুড়ে দেয়। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি হামলার শিকারের দেশে পরিণত হয়, এমনকি ইসরাইলের চেয়েও বেশি।

যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে, কিছু হামলা সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। এরপরই আবুধাবি মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চায় বলে জানা যায়। এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয় বলে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আয়রন ডোম মোতায়েনের নির্দেশ দেন। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া বহু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। একইসঙ্গে যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই পক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল ও রয়টার্স

এআরবি

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে আমিরাত

হরমুজ প্রণালি এই যুদ্ধে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে: কাতার

আমিরাতে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও কর্মী পাঠিয়েছিল ইসরাইল

যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

ইরানে যুদ্ধের প্রভাব মানুষের পকেট পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে নিহত ২ হাজার ৮৫২

গত মাসে ইরানে হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

মার্কিন হামলা থেকে ইরানের যুদ্ধবিমান রক্ষা করছে পাকিস্তান

সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার দায়ে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বৈঠকে যোগ দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া